পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রংপুরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে আমনসহ জমির বিভিন্ন ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে কৃষক ক্ষেতে সেচ দিতে পারছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৩৬ হেক্টর।
জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই একর জমিতে আমন চাষ করেছিলেন তিনি। বৃষ্টি ও পানির অভাবে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আমনের চারা একেবারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শফিকুলের মতো স্থানীয় চাষিরা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার চাষি রবিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় আড়াই একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। প্রচণ্ড রোদের কারণে আমন চারাগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুশ্চিন্তায় কাটছে তাঁর সময়। তিনি বলেন, এই আবাদটুকু নষ্ট হয়ে গেলে পথে নামতে হবে তাঁকে। কারণ ধারকর্জ করে তিনি ফসল আবাদ করেছেন।
পীরগাছা উপজেলার চাষি মিলন মিয়া জানান, ২০-২২ দিন ধরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও বৃষ্টি না হওয়ায় জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই জমির ফসলের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বীজতলা। দুশ্চিন্তা আর দুর্ভোগে কৃষকরা। শুধু ধান আবাদ নয়, বিভিন্ন জাতের সবজি চাষে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এদিকে পানির অভাবে সোনালি ফসল পাট জাগ দিতে পারছেন না চাষিরা। এতে জমির ফসল জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। পুকুর ও নদীতে পানি নেই। পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে পানি থাকলেও সেখানে পাট নিয়ে জাগ দিতে পারছেন না চাষিরা।
চাষিরা জানান, আর কয়েক দিন খরা-দাবদাহ অব্যাহত থাকলে তাঁদের জমির আমন ধানসহ বিভিন্ন সবজি একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে। তাঁরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রংপুরের প্রায় ৫৭০ হেক্টর জমির ফসল। এখন ফসল পুড়ে যাচ্ছে। তাঁরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে আছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, বেশ কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও রোদের কারণে অনেক অঞ্চলে জমির ফসলে চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায়ই জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানান, গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর আমন চাষ ব্যাপক হারে করা হয়েছে। কিন্তু দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে রোপণ করা চারাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনই বৃষ্টি হলে এসব চারা নষ্ট হবে না। এ ছাড়া জমিতে সেচ দিতে না পারলে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিনি আরো বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রতিদিন চাষিদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এসব ফসল আগে জমি থেকে না ওঠানোর জন্য।


