বৃহস্পতিবার তাড়াইলে ইসলাহী ইজতেমা শুরু

বৃহস্পতিবার তাড়াইলে ইসলাহী ইজতেমা শুরু

আদিব সৈয়দ : জিকিরময় পুণ্যের প্রশিক্ষণমূলক ইসলাহী ইজতেমা আবারও শুরু হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। বৃহস্পতিবার থেকেই ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ইমাম, আওলানাদে রসূল হযরত আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের আহ্বানে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রাণচাঞ্চল্যময় হয়ে উঠছে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার বেলঙ্কা। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা সাধারণ মানুষদের এই মিলনমেলার একটাই উদ্দেশ্য- মহান আল্লাহকে নিজের করে নিতে হবে। আখেরাতে অনাবিল শান্তির উদ্দেশে, নিজেকে আরেকটু শোধরাবার জন্য, সংশোধনের তাড়নায় ছুটে আসে তাড়াইলে। হাওড়ের পাশাপাশি বেলঙ্কার মানুষও অতি সাধারণ সাদা মনের। এই ইসলাহী ইজতেমাকে উপলক্ষ করে তাদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। দূরদূরান্ত থেকে আগত মানুষদের খেদমতে তাদেরকে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। আচারে, ব্যবহারে, অন্যের উপকারে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রসর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।

ইসলাহী নিয়ত
তাড়াইলে সাধারণদের সবাই নিজেকে ইসলাহ বা সংশোধন করার জন্যই ছুটে আসেন। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সংশোধন জরুরি। সততা ও সত্যবাদিতায়, সবরে, কৃতজ্ঞতায়, ন্যায়পরায়ণতায়, দয়ায়, বিনয়ে, বদান্যতায়, আমানতদারীতে, প্রতিশ্রুতি রক্ষায়, বীরত্বে, ভয়ে, খুশুখুযূতে, ভালোবাসায়, অহংকার, ব্যয়ে এমন সর্বক্ষেত্রে ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধি ও আত্মন্নোয়ন প্রয়োজন। মাদানী সিলসিলার এই ইসলাহী ইজতেমা নিজেকে সংশোধনের একটি প্রশিক্ষণকর্মশালা।

জিকিরের নূরানী আবহে
কলবে আল্লাহর জিকির জারি হয়ে গেলে-এরচেয়ে আর সৌভাগ্যের কী হতে পারে। পবিত্র কুরআনে আছে, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো। [সূরা আহযাব : ৪১-৪২]

সূরা বাকারায় আছে, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। [সূরা বাকারা : ১৫২]

বান্দার কলবে আল্লাহকে হাজির করে দেওয়ার প্রশিক্ষণই তহাড়াইলের এই ইসলাহী আয়োজন। সূরা রা’দে মহান আল্লাহ বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরেই মন প্রশান্ত হয়।
একটি প্রশান্ত মনের জন্য মানুষ কতকিছুই না করে থাকে। একবার ধ্যানে, একবার বিয়ামে আবার ঘুরে বেড়ায় সাগরের তীরঘেঁষে।

জিকির বিষয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের জিকর করে এবং যিকর করে না তার উদাহরণ যথাক্রমে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো। [বুখারী ও মুসলিম]

সুন্দর মানুষের জন্য
যার ভেতরে আল্লাহ আল্লাহ ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে যাবে তার তো আর কোনো ভয় নেই। ইসলাহী এই আয়োজনের মূল কাজই হলো মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক করে দেওয়া। ইসলাহী ইজতেমার আকর্ষণে তাড়াইলেও অনেক পরিবর্তন লক্ষণীয়।

একটি সম্মিলিত দুআয়
রবিবার সকালেই আখেরী মুনাজাত হয়। সূরা আল মু’মিনে মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। [সূরা মু’মিন : আয়াত ৬০]
ইসলাহী ইজতেমা মহান আল্লাহকে ডাকার একটি চমৎকার আয়োজন। কারণ এখানে আগত সবার উদ্দেশ্য একটাই। সবাই আল্লাহকেই পেতে চায়।

ইসলাহী ইজতেমার আয়োজক সমন্বয়ক মাওলানা সাঈদ নিজামী জানান, ২০১৮ সালের ইসলাহী ইজতেমার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ইনশাআল্লাহ এ বছর আরো সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকবে। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ঢাকা মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বলেন, এবার বিশেষ কারণে একটু বিলম্ব হলো। দেশের জমিয়তসদস্যদের বিশেষত এই ইসলাহী প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ, আত্মশুদ্ধিও জমিয়তের একটি কর্মসূচি।

ইসলাহের আবহে তাড়াইল থেকে ছড়িয়ে পড়–ক সারা দেশে হেদায়াতের এই হাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *