বেসরকারিভাবে জ্বালানি আনার চিন্তা

বেসরকারিভাবে জ্বালানি আনার চিন্তা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানির সুযোগ করে দিতে চায় সরকার। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট নিরসনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্য সরকার নিজেই নির্ধারণ করতে পারবে। এসংক্রান্ত আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান যেকোনো ধরনের জ্বালানি আমদানি করতে পারবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কয়েক দিনের মধ্যে। এরপর বেসরকারি খাত জ্বালানি আমদানি করতে পারবে। সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনা করেন বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ফুয়েলসহ অন্যান্য এনার্জি বেসরকারিভাবে আমদানির ব্যবস্থা করা যায় কি না। সে ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প—তারা এনে বাজারে বিক্রি করলে বেশি ভালো হয় কি না; এখন যে আইন আছে, তারা ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আনবে, এনে তারা যদি রিফাইন (পরিশোধন) করে…এখন তো আমাদের বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ছাড়া কেউ জ্বালানি বাজারজাত করতে পারে না।

সাধারণত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ৪১ থেকে ৪২ শতাংশ পরিশোধিত তেল করা হয়। পরিশোধিত তেল আমদানিকারকরা বিপিসির কাছে দিয়ে দিল; অথবা তারা সরাসরি বাজারজাত করতে পারে কি না, সেটাও দেখতে হবে। তবে যেটা করতে হবে সেটা হলো, অপরিশোধিত তেল যারা আনবে, বিটুমিনসহ অন্যান্য যে উপজাত পণ্য আসবে, এগুলো হয় তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করবে অথবা বাইরে রপ্তানি করবে।’

পরিশোধিত তেলের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘তারা বিপিসির কাছে বিক্রি করে দিতে পারে বা বিপিসি তাদের অন্য কোনো ব্যবস্থা কিংবা আইন সংশোধন করে বিক্রির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএসটিআইকে তদারকিতে রাখতে হবে, যেটা পরিশোধিত হবে সেটা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য কি না।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি যখন বেসরকারি খাতকে জ্বালানি রিফাইন করতে দেবেন, তখন তাদের রিফাইনারি করতে হবে। যেমন—বসুন্ধরা একটা ইন্ডাস্ট্রি করেছে বিটুমিনের। বিটুমিন তো রিফাইন (পরিশোধন) না করলে হবে না। তারা (বসুন্ধরা) কিন্তু পরিকল্পনা করে নিয়েছে। যারা মার্কেটিংয়ের জন্য ফুয়েলসহ অন্যান্য এনার্জি আমদানি করবে, তাদের রিফাইনারি করে নিতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, সংশোধিত আইনের ফলে শুনানি ছাড়াই সরকার যেকোনো সময় জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে পারবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিইআরসিকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। হঠাৎ বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে দেরি হয়। সে কারণে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হচ্ছে।

অধ্যাদেশের ৩৪-এর ‘ক’ যুক্ত করে বলা হবে, সরকার প্রয়োজনবোধে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে পারবে। এ বিষয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে দাম সমন্বয়ের কাজ বিইআরসি কমিশনই করবে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বিইআরসির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হলে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকত। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার পেছনের দিকে হাঁটছে। জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার যাতে কোনো ধরনের বিতর্কের মধ্যে না পড়ে, তাই বিশ্বের প্রায় সব দেশই রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে।

চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০২২-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিক্যাল এডুকেশনের যৌথ একটা টাস্কফোর্স আছে, তাদের কিছু রিকোয়ারমেন্ট আছে, মেডিক্যাল চিকিৎসাকে একটা ন্যূনতম লেভেলে নিতে গেলে একটা স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে হবে। তারাই প্রতিটি মেডিক্যালের চিকিৎসা পাঠক্রমগুলো নির্ধারণ করবে। সে জন্য এই আইন।’

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *