বোকো হারামকে জানতে হবে ইসলাম কী : মালালা

বোকো হারামকে জানতে হবে ইসলাম কী : মালালা

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● শিশু অপহরণের ঘটনা ইসলামে অগ্রহণযোগ্য। বোকো হারামকে জানতে হবে, ইসলামে এ ধরনের (শিশুদের অপহরণ) কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য। এটি মানবতা ও ইসলামবিরোধী।

গত সোমবার নাইজেরিয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই এ কথা বলেন। ওই দিনই তিনি নাইজেরিয়ায় যান। বোকো হারামের কবল থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ১০০ জনের বেশি স্কুলশিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি কথা বলেন। বর্তমানে এই শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য রাজধানী আবুজায় রাখা হয়েছে।

সফরের সময় মালালা এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে কথা বলেন। ওই শিশুদের চোখেমুখে ছিল মুক্তির আনন্দ। কিন্তু তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত না পাঠানোয় তিনি খুশি হতে পারছেন না। তিনি আশা করেন, এই শিশুরা পরিবারের কাছে ফিরবে ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে।

এখনো যারা বোকো হারামের হাতে বন্দী, তাদের কথা উল্লেখ করে মালালা বলেন, সরকারকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, তাহলেই তারা অপহৃত বাকি মেয়েশিশুদের উদ্ধার করতে পারবে।

মালালা ওই দিন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইয়েমি ওসিনবাজোর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বোকো হারামের কারণে বাস্তুচ্যুত এক কোটির বেশি শিশুর বিষয়ে কথা বলেন এবং নাইজেরিয়ায় শিক্ষা বিষয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার চাপ দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যান শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মালালা ইউসুফজাই। সেখানে অনেক কিশোরী তাঁকে স্বাগত জানায়। তিনি বোকো হারামের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক মেয়েশিশুর সঙ্গে কথা বলেন।

কিশোরীদের ক্ষমতায়নবিষয়ক সফরের অংশ হিসেবে মালালা নাইজেরিয়া গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নাইজেরীয় মেয়েদের কারণে এসেছি। তাদের পক্ষে লড়াই করতে এবং তাদের পক্ষে কথা বলতে এসেছি।’

এর আগে ২০১৪ সালেও দেশটি সফর করেন মালালা। তখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের সঙ্গে দেখা করে তিনি চিবোক এলাকা থেকে অপহৃত দুই শতাধিক স্কুলশিক্ষার্থীকে উদ্ধারে চাপ দিয়েছিলেন।

২০১২ সালে মালালা যখন ১৫ বছরের কিশোরী, তখন তিনি তালেবান জঙ্গিদের হামলার শিকার হন। নারীদের জন্য শিক্ষার প্রচার চালানোয় তাঁকে এ হামলার শিকার হতে হয়েছিল।

বোকো হারামের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ১৫ বছরের ফাতিমা আলী বলেন, ‘তাঁর (মালালা) গল্প আমাদের মধ্যে আশা জাগায়, তাই আমরাও স্কুলে যেতে চাই এবং জীবনে কিছু হতে চাই। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার জন্য আমাদের নানা কষ্ট করতে হয়। আমাদের পেটে খাবার থাকে না। দিনে হয়তো বড়জোর একবার আমাদের খাবার জোটে। দুই মাস ধরে সরকারের লোকজন আমাদের জন্য খাবার দিচ্ছে না। এখন আর আমাদের সকালের খাবার জোটে না।’

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্ব এলাকার ৩০ লাখ শিশুর লেখাপড়ার জন্য সহায়তা প্রয়োজন। ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারামের চলমান সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ স্কুল ধ্বংস হয়েছে। ২ হাজার ২৯৫ জনের বেশি শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *