বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের সময় বাড়লো

বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের সময় বাড়লো

বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের সময় বাড়লো

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্যভা-র খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সরকারিভাবে খাদ্য গুদামে বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহী নন কৃষক। স্থানীয় হাট বাজারে ধান বিক্রি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন তারা। তেমনি বাড়তি দামে ধান ক্রয় করায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেননি মিলাররা।

গত ১৪ মে মহাদেবপুর সদর খাদ্য গুদামে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন সংগ্রহ কমিটি। শেষ সময় ছিল ৩১ আগস্ট। কিন্তু সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য গুদাম কতৃপক্ষ।

এদিকে চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ যে সব মিলাররা চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বা অসহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিপত্র ও চালকল লাইসেন্স ইস্যু সংক্রান্ত বিধিবিধানসহ প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর চিঠি দিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা।

উপজেলার নাটশাল গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এবার বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় সেখানেই ধান বিক্রি করেছি। সরকার এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান কিনলেও ধান শুকানো, ফ্যানিং করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ময়েশ্চারসহ নানা রকম ঝামেলা পোহাতে হয়। আড়তদারদের নিকট ঝামেলা ছাড়াই মাঠ থেকে কাঁচা ধান কেটে নিয়ে বিক্রি করা যায়। তাই খাদ্য গুদামে ধান না দিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করেছি। প্রতি মণ ধান ৯৫০ থেকে ১০৫০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছি। সরকারি গুদামে ধান দিতে পরিবহন খরচ বেশি। আড়তদারদের কাছে দিলে খরচ কম হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে মিলারদের নিকট থেকে ১৭ হাজার ১৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে দুই হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়।

স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৪ হাজার কৃষককে নির্বাচন করা হয় উন্মুক্ত লটারি মাধ্যমে। নির্বাচিত প্রতিজন কৃষক এক মেট্রিক টন করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবেন। এছাড়া সিদ্ধ চাল সরবরাহে ২৯২ জন মিলার এবং আতপ চাল সরবরাহে ১৯ জন মিলারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল সরবরাহের কথা থাকলেও সিদ্ধ চাল মাত্র ৭ হাজার মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৭০০ মেট্রিক টন সরবরাহ করা হয়েছে এবং কৃষকরা মাত্র ৭০০ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করেছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছিল। এতে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯৫৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল উদ্দিন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী অনেক মিলার খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। বাড়তি দামে ধান ক্রয় করায় সরকারি মূল্যে চাল দিলে মিলারদের অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার অনেক মিলার দেওলিয়া হয়ে গেছে। খাদ্য বিভাগ ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করেছে। ওই সময়ের মধ্যে অনেকে চাল সরবরাহ করবেন।

মহাদেবপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান, ৩ হাজার ৭৪৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ২৭৩ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শওকত জামিল বলেন, চুক্তিবদ্ধ মিলারদের বেশ কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি এবং দফায় দফায় মুঠোফোনে কল করেছি। তার পরও কোনও লাভ হয়নি। সম্প্রতি খাদ্য অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে মিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি পত্র পেয়েছি। নির্ধারিত সময় শেষে সেই পত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *