ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে

ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক ● মামলার তদন্তে ফরহাদ মজহারকে অপহরণের ঘটনার কোনও সত্যতা না পায়নি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত ও প্রতারণা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত পুলিশ রিপোর্ট আদালতে জমা হবে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ ও নাটক করার অভিযোগে কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সম্প্রতি পাওয়া মামলার তদন্তের তথ্য নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ফরহাদ মজহার অপহৃত হওয়ার যে অভিযোগ করেছিলেন, তার কোনও সত্যতা তারা পাননি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে, বান্ধবী অর্চনাকে টাকা দেওয়ার জন্যই ফরহাদ মজহার অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি নিজেই খুলনা গিয়ে স্ত্রীকে ফোন করে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানান। এমনকি স্ত্রী ফরিদা আখতারকে বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে কথিত অপহরণকারীদের চাহিদা মতো টাকাও দিতে বলেন। খুলনায় গিয়ে একটি মার্কেটে ঘোরাফেরা, একটি দোকানে গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্চনার কাছে টাকা পাঠানো, হোটেলে রাতের খাবার খাওয়া এবং হানিফ পরিবহনের টিকিট কেটে পুনরায় ঢাকায় ফেরার বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে ফরহাদ মজহারের অপহরণের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ও নাটক করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফরহাদ মজহারের অপহৃত হওয়ার বিষয়ে আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন তার স্ত্রী ফরিদা আখতার। মিথ্যা মামলা করার দায় তার ওপরেই পড়ার কথা। কিন্তু তদন্ত করে দেখা গেছে, মামলা করার ক্ষেত্রে ফরিদা আখতারের কোনও দায় নেই।

তিনি অজ্ঞাতসারে ফরহাদ মজহারের দেওয়া মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। একারণে ফরিদা আখতারের বদলে ফরহাদ মজহারকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কর্মকর্তা আরও জানান, দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা বা ১৯১ বা ১৯৩ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার সময় এসব উল্লেখ করে আদালতে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। আদালত অনুমতি দিলে ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

মিথ্যা ফৌজদারি মামলা বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনায় দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোনও অভিযোগ দায়ের বা অপরাধ সংঘটিত করেছে মর্মে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে, মামলা দায়েরকারীকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করারও বিধান রয়েছে। এছাড়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ১৯১ ও ১৯৩ ধারায় শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *