ভারতের এগার জেলায় মাহমুদ মাদানীর উন্মুক্ত স্কুল

ভারতের এগার জেলায় মাহমুদ মাদানীর উন্মুক্ত স্কুল

ভারতের এগার জেলায় মাহমুদ মাদানীর উন্মুক্ত স্কুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্কুল নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী রহ.। কিছুদিন আগে তার ভাই হযরত আরশাদ মাদানীও স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যুগান্তকারী বক্তব্য দিয়েছিলেন। এদিকে সরাসরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেই আলোচনায় এসেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহুমদ মাদানী।

ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ভারতের প্রায় ১১টি জেলায় মাহমুদ মাদানী উন্মুক্ত স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

জমিয়তের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত উর্দু বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের ১১টি জেলার প্রায় ৮০ জন নবনিযুক্ত শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে মাসব্যাপী। প্রশিক্ষণ শেষে নির্ধারিত জেলায় তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষাদান শুরু করবেন।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেন, এই উন্মুক্ত স্কুলগুলো মাদরাসার ছাত্রদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেন তারা নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষাও অর্জন করতে পারে।

মাওলানা মাদানি আরো বলেন, আমাদের আসল উদ্দেশ্য দ্বীনের প্রচার-প্রসার। আমাদের সন্তানেরা যখন দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষাও অর্জন করবে, তখন দ্বীন প্রচারে জাগতিক শিক্ষাও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের আগের বড় আলেমরাও প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করেছিলেন। যেন তাদের দ্বারা দ্বীনের প্রচার-প্রসার উত্তম পন্থায় ও সহজভাবে হয়।

জমিয়তের এই নজিরবিহীন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ভারতের সর্বস্তরের মুসলমানরা। তারা বলছেন, এই উন্মুক্ত স্কুলে যদি মানসম্মত শিক্ষা দেয়া হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষাবঞ্চিত সন্তানেরা অনেক এগিয়ে যাবে এবং দেশ ও ধর্মের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

এর আগে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেছেন, এখন সময় এসেছে; মুসলমানদের পেটে পাথর বেঁধে হলেও নিজেদের সন্তানদেরকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার। আমাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠিত এমন কিছু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থাকা দরকার, যেখানে আমাদের সন্তানেরা ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে জাগতিক শিক্ষা অর্জনে সক্ষম হয়।

মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, দেশজুড়ে এখন যে ধরনের ধর্মীয় ও আদর্শিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার মোকাবেলা কোনো অস্ত্র বা প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব নয়। বরং এই যুদ্ধ জয়ের একমাত্র উপায় নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে এমনভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলা, যেন তারা নিজেদের জ্ঞান এবং প্রতিভার অস্ত্র দিয়ে এই আদর্শিক যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *