পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যখন সাম্প্রদায়িক হামলা, দাঙ্গার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তখন ঠিক তার উল্টো এক চিত্র দেখা গেল উত্তরপ্রদেশের একটি কারাগারে। সেখানে পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম বন্দিদের সাথে নিয়মিত ইফতারে যোগ দেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। কিছু হিন্দু বন্দি মুসলমানদের রোজার অনুরূপ রীতি মেনে উপবাস পালন করছেন।
উত্তর প্রদেশের বারাবানকি জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশজুড়ে পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, বারাবানকি জেলের এই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বহুদিনের পুরোনো। প্রায় ৫০ বছর ধরে এ রীতি পালন হয়ে আসছে। সাজাপ্রাপ্ত অনেক হিন্দু বন্দি একই সেলে থাকা মুসলিম বন্দির সাথে সৌহার্দ্য প্রদর্শনে এক মাস উপবাস পালন করেন।
বারাবানকি জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে এক হাজার ৪০০-এর মতো বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে মুসলিম বন্দির সংখ্যা ২৫০। সাধারণত তারা সবাই রোজা পালন করেন। এবার তাদের সঙ্গে ১৫ জন হিন্দু উপবাস পালন করছেন।
জেল সুপারিন্টেডেন্ট জানান, যেসব মুসলিম রোজা রাখেন, তাদের জন্য সেহরি ও ইফতারের সময় দুধ ও চায়ের ব্যবস্থা আছে। বিশেষ খাদ্য তালিকায় থাকছে ক্ষীর ও শেমাই। হিন্দু বন্দিরাও সেহরিতে যোগ দিতে ভোর তিনটায় উঠছেন।
সুপারিন্টেডেন্ট আরো বলেন, জেলে আমরা এই রীতি পালন করছি। কারণ আমরা মনে করি, এর ফলে বন্দিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিকশিত হবে। অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠবে।
কারাগারে চুরির দায়ে বন্দি রাকেশ কুমার একই সেলে থাকেন আরেক বন্দি জাভেদ খানের সঙ্গে। এবারও তিনি উপবাস পালন করছেন। গত রমজানে তার সাথে ছিলেন সেলিম নামের আরেক মুসলিম। উপবাস পালনের কারণ জানতে চাইলে রাকেশ বলেন, আমরা একসঙ্গে থাকি। পরিবেশটা যাতে আপন হয়ে ওঠে, তাই উপবাস করি।
অন্যদিকে ডাকাতির দায়ে জেলবন্দি দীনেশ কুমার বলেন, রোজা পালন করলে শারীরিক সংযম তৈরি হয়। এটা ভাল অভ্যাস। তাই উপবাস করি।
আরেক বন্দি হরেরাম জানান, বারাবানকি জেলের এই রীতি ধর্মের ঊর্ধ্বে। এটা আমাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় একতার উদাহরণ। মুসলিমরা তো আলাদা কিছু নয়। তারাও আমাদেরই অংশ।


