পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মি টু যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলনের নাম। আমাদের দেশে একেবারেই অপরিচিত মনে হলেও পাশ্চাত্যে এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল ক্ষেত্রে খুবই পরিচিত দুটি শব্দ। ভারতে চলছে ‘মি টু’ ঝড়। তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও এই ঝড়ে আক্রান্ত। এরই মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
৮ অক্টোবর ভারতের দুই নারী সাংবাদিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী মণিকা গান্ধি এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা বলেন। এছাড়াও দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস যৌন হয়রানির অভিযোগে আকবরের পদত্যাগ দাবি করেন। আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা ওই দুই নারী সাংবাদিকের একজন প্রিয়া রামানি। প্রায় এক বছর আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ভারত সংস্করণে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি এই যৌন নির্যাতনের কথা বলেছিলেন।
টুইট বার্তায় প্রিয়া রামানি বলেছেন, সেই ঘটনার জন্য দায়ী এম জে আকবর। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, যাদের বেশিরভাগই সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী আকবর সম্পাদক থাকাকালীন তারা যৌন হেনস্তার শিকার হন।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা আরো জানা গেছে , রোববার সকালে নাইজেরিয়া থেকে দিল্লি আসেন এম জে আকবর। বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে বিবৃতি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আকবর। যদিও তার ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি। কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে তার বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতে একের পর এক নারী সাংবাদিক তাদের সাবেক সম্পাদক, ব্যুরো চিফ বা ঊর্ধ্বতন বসের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অজস্র অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সামনে আনতে শুরু করেছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন, কোথাও আবার সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠান অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তারপরও প্রভাবশালী এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আদৌ শাস্তির আওতায় আনা যাবে কি-না, পর্যবেক্ষকেরা তা নিয়ে সন্দিহান।
উল্লেখ্য, মি টু যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলনের নাম। আমাদের দেশে একেবারেই অপরিচিত মনে হলেও পাশ্চাত্যে এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল ক্ষেত্রে খুবই পরিচিত দুটি শব্দ। সামাজিক কর্মী ও কমিউনিটি আয়োজক কমিউনিটি অর্গানাইজার তারানা বার্ক ১৯৯৭ সালে ১৩ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনা শুনে তিনি নির্বাক হয়ে যান। সে থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম। ২০০৬ সালে দি মাইস্পেস সোশাল নেটওয়ার্ক সংগঠনের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে দেওয়া ‘সহানুভূতির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন’ নামক বক্তবে তিনি এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে আমেরিকান অভিনেত্রী আলেসা মিলান এই উদ্যোগকে সামাজিকভাবে সকল মানুষ বিশেষ করে, যারা যৌন হয়রানির শিকার তাদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেন।


