পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের মাদরাসাগুলোতে গত বছরের তুলনায় এবার অমুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যা পাঁচ শতাংশ বেড়ে গেছে। আগে মাদরাসার ছয় থেকে সাত শতাংশ শিক্ষার্থী অমুসলিম হলেও এবার সেটা ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে।
গত, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দাখিল, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। অনেকেই এটাকে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভারতের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুসারে, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ উর্দু মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়েছে। বাকি প্রায় ৯৭ শতাংশই বাংলা মাধ্যমের।
অন্যদিকে, পাসের হার কয়েক বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দাখিল, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৫ মার্চ।
৩৮ কর্ম দিবসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দাখিলে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৫ হাজার নয়শ ৫০ জন। তার মধ্যে অমুসলিম ছাত্রছাত্রী ছয় হাজার দু’শ ৫৪ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে চার হাজার পাঁচশ ৮২ জন।
সামগ্রিকভাবে দাখিল মাদরাসায় পাস করেছে ৮৩ দশমিক দুই শতাংশ শিক্ষার্থী। আলিমে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ফাজিলে মোট ৮৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ পাস করেছে। দাখিল মাদরাসা স্তরে পশ্চিমবঙ্গে মোট ১৭টি উর্দু মাধ্যমে চলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার ছয়শ ৯৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
দাখিল মাদরাসা স্তরে সাধারণত ছয় থেকে সাত শতাংশ শিক্ষার্থী অমুসলিম হয়। এবার সেই হার বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এই বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, মাদরাসা মানেই বিশেষ ছাতা, বিশেষ ধর্ম এই ধারণা ক্রমে কমে আসছে। মানুষ মুক্ত মনে আধুনিক শিক্ষার নানা মাধ্যমে যোগদান করছে। রাজ্য সরকারের শিক্ষামুখী বিভিন্ন প্রকল্প যেমন কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, নানা স্কলারশিপ এ ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করেছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবককে আমরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসা বোর্ডের সভাপতি শেখ আবু তাহের কামরুদ্দিন বলেন, এই ফলাফলেই স্পষ্ট হচ্ছে কেবল মুসলিম ভাই বোনেরা নয়, অমুসলিম সম্প্রদায়ের ভাইবোনেরাও মাদরাসায় পড়াশোনা করতে এগিয়ে আসছে। মাধ্যমিকের সিলেবাসের সঙ্গে দাখিল মাদরাসায় পাঠ্যসূচিও এক।
এবার ফলাফলের সঙ্গে স্কলারশিপের হাল হকিকতসহ সবকিছুই পর্ষদের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। কোথা থেকে কোন পদ্ধতিতে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারেও মাদরাসা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেই তথ্য পাওয়া যাবে।


