পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে সরকারি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশের সাগরে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন কৃষি দফতরের ওই সরকারি কর্মকর্তা।
অগ্নিদগ্ধ সাংবাদিকের দেহের প্রায় ৯০ শতাংশ যখন জ্বলে গিয়েছে, তখন তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু লাভ হয়নি। প্রাণ হারান সাংবাদিক চক্রেশ জৈন। তিনি ভারতের একটি হিন্দি দৈনিক সংবাদপত্রের সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার ৫ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তার বাড়ির পাশ থেকে সাংবাদিকের দেহ উদ্ধার হয়। ততক্ষণে ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে সাংবাদিকের দেহ। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চক্রেশকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২ বছর আগের। সেই সময় তপশিলী জাতি-উপজাতি আইনে সাংবাদিক চক্রেশ জৈনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কৃষি দফতরের কর্মকর্তা আমন চৌধুরী। এরপর থেকে শুরু হয় মামলা। মামলা যখন সামপ্তির দিকে, ঠিক তখনই সাংবাদিককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে আমান চৌধুরী মৃত সাংবাদিক চক্রেশ জৈনের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতী ও উপজাতি নির্যাতন (প্রতিরোধ) আইনে একটি মামলা করেন। এই মামলা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ চলছিল।
মামলার বিষয়ে ওই কর্মকর্তার বাড়িতে আলোচনা করতে যান সাংবাদিক। আর সেই সময়েই গায়ে পেট্রোল ঢেলে তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এমনই দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমন চৌধুরী ও আরও একজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তও চলছে।
উল্লেখ্য, ভারতে সাংবাদিকদের উপড়ে আক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে উঠছে। এর আগে প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশকে গুলি করে খুন করার ঘটনা নিয়ে ভারত জুড়ে সমালোচনা হয়েছিল। এরপরেও বেশ কিছু সাংবাদিক খুন ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার ফের মধ্য প্রদেশে ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।


