ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

শরিফুল আলম : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পরিবহণ যোগাযোগ দুই দেশের জন্যই অনেক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালুর মধ্য দিয়ে দর্শনা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৫ সালে সান্তাহার থেকে পার্বতীপুর, ১৯২৬ সালে পার্বতীপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত মিটারগেজ রেল লাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়।

১৯৪৭ সালে বাংলা ও ভারত ভাগ হয়ে যাবার পর দীর্ঘদিন ধরে দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেলপথ ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে ঢাকা-কলকাতার মধ্যে যে রেলপথটি চালু ছিলো তা বন্ধ হয়ে যায়। মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ আবার রেলপথে ঢাকা-কলকাতাতে যাতায়াতের সুযোগ পায়।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট ৭টি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৪টি পয়েন্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ চলছে। এগুলো হলো বেনাপোল-পেট্রাপোল, এই সেকশনে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। দর্শনা-গেদে যার মাধ্যমে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। বিরল-রাধিকাপুর এবং রহনপুর-সিঙ্গাবাদ পয়েন্টের মাধ্যমে শুধু মালামালবাহী ট্রেন চলাচল করে। বাকি ৩টি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট বন্ধ আছে যেগুলো খুলে দেওয়ার কাজ চলছে। সেগুলো হলো শাহবাজপুর-মহিশাসন, বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা এবং চিলাহাটি-হলদেবাড়ি।

এছাড়া নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের নরেন্দ্রমোদী আন্তঃদেশীয় দুটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে কুলাউড়া-শাহাবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প যার ভৌগোলিক অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায়। প্রকল্পের লক্ষ্য ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন যোগাযোগ পুনঃস্থাপন। প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান মিটার গেজ এমব্যাংকমেন্ট সংস্কারসহ প্রায় ৫৩ কি. মি. ডুয়েল গেজ রেল লাইন, সেতু ও কালভার্ট, স্টেশন অবকাঠামো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পূর্ত কাজ সম্পাদন এবং নন-ইন্টারলকড কালার লাইট সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৮৫০.৭৯ লাখ টাকা।

কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি বৃটিশ শাসনামলে, ১৮৯৬ সালের। বাজেট স্বল্পতার কারণে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় সেকশনটি গত ৭ জুলাই ২০০২ তারিখ বন্ধ ঘোষিত হয়। আন্তঃদেশীয় ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুকরণের লক্ষ্যে ২০১১ সালে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইন সংস্কারের লক্ষ্যে প্রকল্প ছক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুলাউড়া-শাহবাজপুর (জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত) সেকশনটি মিটার গেজের পরিবর্তে ডুয়েল গেজ হিসেবে সংস্কারের লক্ষ্যে ২৬ মে ২০১৫ এ ৬৭৮৫০.৭৯ লাখ টাকা মূল্যমানের ১ম সংশোধিত প্রকল্প ছক একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রস্তাবিত রেল লাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ভূমিতে নির্মিত হবে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

উদ্বোধনকৃত ২য় প্রকল্পটি হলো আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্প এর ভৌগোলিক অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায়। গঙ্গাসাগর রেল স্টেশন হতে সীমান্তবর্তী শিবনগর মৌজা পর্যন্ত। মোগরা গঙ্গানগর, মনিয়ন্দ, বিষ্ণুপুর মৌজা।

 

লেখক : কলা্মিস্ট

২৬.১১.২০১৮

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *