ভার্চুয়াল কোর্টের বৈধতা চ্যালেঞ্জে করা রিট সরাসরি খারিজ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন অনুসরণ করে অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ (সামারিলি রিজেক্ট) করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ। রিট আবেদনকারী এ কে এম আসিফুল হক বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন- অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী আইনজীবী এ কে এম আসিফুল হক।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভার্চুয়াল কোর্ট চলমান রয়েছে। তাই আমরা এ বিষয়ে রুল জারির প্রয়োজন মনে করছি না। তারপর আদালত রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর আগে গত মাসে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী এ কে এম আসিফুল হুদা। শুনানি নিয়ে রিটটি খারিজ করলেন আদালত।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। দুদিন পর ৯ মে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।
১০ মে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুল কোর্ট সভা হয়। সভায় ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত হয়। আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ শিরোনামে গত ৯ জুলাই আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আসিফুল হক গত ২৩ আগস্ট একটি রিট করেন। রিটের ওপর ২৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদেশ দেয়া হয়।
মো. বশির উল্লাহ আরও বলেন, আদালত রুল না দিয়ে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ভার্চুয়াল কোর্ট আরও আগেই চালু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। করোনা মহামারিকালে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া বিচারপ্রার্থীদের কাছে বিচার পৌঁছে দেয়া জরুরি। যে কেউ চাইলে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম দেখতে ও শুনতে পারেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।


