ভাল আছি। আপনি?
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : আমি ভাল আছি। সবাই এ কথার উত্তরে বলেন, আছি এক রকম। ভাল-মন্দ মিলয়ে সকলি। আমরা বলি, আল-হামদুলিল্লাহ্ অর্থাৎ আমি যে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ভালভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, এটা আমার সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত। এটা বলে আমরা তাকে স্মরণ করি। এর চেয়ে ভাল স্মরণ আর হয় না। তবে বুঝে করলে এক রকম, না করলে অন্যরকম।
তরকারীওয়ালা অনেক বেগুণ নিয়ে এসেছে। ভরসা সব বেগুণ বিক্রি হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত একটাও হয় নি। জিজ্ঞেস করলাম, তোমার নিজের ক্ষেতের? বলল, সবগুলো আমার স্ত্রীর পরিশ্রমের ফসল। প্রায় সাত-আট কেজি হবে। আমি বললাম, সব নেব। সে অবাক হয়ে গেল। বলল, এত। আমি তাকে আমার সাধ্য অনুযায়ী একটি বড় নোট পকেটে পুরে দিলাম। তার চোখে মুখে আনন্দ। এ আনন্দের আর তুলনা হয় না। বাসায় এসে সবগুলো ফ্ল্যাটে বিলিয়ে দিলাম। ওরাও আনন্দিত। এত সুন্দর বেগুণ তারা কোনদিন দেখে নি। অল্পেতে মানুষকে কিভাবে আনন্দ দেয়া যায়।
আমার মেয়ে এসে বলল, আব্বা, সারিনা স্কলারশিপ পেয়েছে অনেক বড় স্কুলে। প্রথম শব্দটি ‘আল-হাম্দুলিল্লাহ্’। কারণ, আল্লাহ্ই তাকে এই স্কলারশিপ মিলিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ্র কাছে কৃতজ্ঞ আছি। আমার এক বন্ধু বলল, আমি আজ সকালে আপনার জন্যে প্রার্থনা করেছি ভগবানের কাছে। ঈশ্বর, ভগবান, আল্লাহ্। যদি প্রার্থনা হয় অন্তর থেকে, তা পৌছুঁবে প্রভুর কাছে। এ কথা মনেপ্রাণে বিশাস করি।
ঈশ্বরের একত্মে বিশ্বাস করি। কখনও দুই হতে পারেন না। সব মানুষের প্রভু। কেবলমাত্র আমার ধর্মের নয়। সব ধর্মের বই স্পর্শ করেছি। আমরা যারা এক ধর্মের কথা বলি, সেটাই শেষ কথা নয়। আল্লাহ্ সবার জন্যে। সবার তিনি স্রষ্টা।
বাড়ি থেকে একজন ফিরেছেন। তার চাকুরিতে যোগদান করার দিন আজ। বললাম, কেমন লাগল? বলল, ইতিহাসের সবচে’ সফল সফর। পঞ্চাশ মারা গেছেন। পাঁচশ জন আহত। আমি বললাম, তবু ‘আল-হাম্দুলিল্লাহ্’ বলুন। সংখ্যাগুলো আরও বেশি হতে পারত। ঠিক নয় কি?
ঈদের দিন কাঁঠালের বিচির ভর্তা, পটল অর্ধেক করে ভাজি, ভাল মুগের ডাল [সুন্দর ষ্টীমারের মত ডাল], সুরু চালের ভাত, একটা কোলের ইলিশ। কেমন?
আল-হাম্দুলিল্লাহ্।
মু. জা. আ.
২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬


