ভিলিয়ার্স-হেলস ঝড়ে রংপুরের জয়

ভিলিয়ার্স-হেলস ঝড়ে রংপুরের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : শেষটা করলেন এবিডি ভিলিয়ার্সই। ম্যাচ কে জিতবে তা নিয়ে কোনো সমীকরণ নেই। ১৫ ওভার শেষে ম্যাচটা পুরোপুরি রংপুরের দিকে হেলে পড়েছিল। ক্রিকেট নাটকীয়তার খেলা এই প্রবাদই ছিল ঢাকার দর্শকদের ভরসা। এক সময় সমীকরণ ছিল কে সেঞ্চুরি পাচ্ছে তা দেখার। দর্শকদের আগ্রহ ছিল ভিলিয়ার্স না হেলস কে হবে বিপিএলের ১৬তম সেঞ্চুরির মালিক।

কারণ, এক সময় দুজনের ব্যক্তিগত রানই ছিল ৭৮। অবশেষে চার-ছক্কার ফুলঝুরি দিয়ে ডি ভিলিয়ার্সই পেলেন অনবদ্য সেঞ্চুরির দেখা। ৫০ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ মারকুটে ব্যাটসম্যান।

বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের সবচেয়ে তারকাবহুল এবং বিগ ম্যাচ ছিল আজ। জয়ের ধারায় থাকা দুর্দান্ত রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ দেখতে। ক্রিস গেইল যথারীতি ঘুমিয়ে রইলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে আউট হলেন গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রাইলি রুশো।

এরপরেই দলকে জেতানোর দায়িত্ব নিলেন ‘মি. ৩৬০ ডিগ্রি’ খ্যাত এবিডি ভিলিয়ার্স এবং গত ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স হেলস। দুজনের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে উড়ে গেল ঢাকা ডায়নামাইটস। রংপুর রাইডার্সের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে চলতি টুর্নামেন্টের ৫ম সেঞ্চুরি হাঁকালেন প্রোটিয়া হার্ডহিটার এবিডি ভিলিয়ার্স। টার্গে দুইশর নিচে হওয়ায় সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও ৮৫ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছে অ্যালেক্স হেলসকে। এবি অপরাজিত ১০০* রানে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৮৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে যায় রংপুর রাইডার্স। দলীয় ৫ রানে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আন্দ্রে রাসেলের শিকার হন তার স্বদেশী ‘বিগ বস’ ক্রিস গেইল (৬ বলে ১)। পরের বলেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রাইলি রুশোর হ্যান্ডগ্লাভস ছুঁয়ে বল চলে যায় নুরুল হাসানের গ্লাভসে। উইকেটটি পেতে অবশ্য রিভিউ নিতে হয়েছে ঢাকাকে। দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া রংপুর রাইডার্সকে পথ দেখান অ্যালেক্স হেলস এবং এবিডি ভিলিয়ার্স। শুরু করেন ধুন্ধুমার ব্যাটিং। ১৯ বলে অর্ধশত রান ছাড়িয়ে যায় জুটি।

৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন হেলস। তার চেয়েও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ‘মি. ৩৬০ ডিগ্রি’ খ্যাত এবিডি ভিলিয়ার্স। ঢাকার রান যেহেতু দুইশর নিচে তাই একজনই তিন অংকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই পরিস্থিতিতে হেলস-ভিলিয়ার্স যেন পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন। রংপুর যতই জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, হেলসকে ততই ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন ভিলিয়ার্স। শেষ অবধি জয় হয় তারই। ৫০ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন মি. ৩৬০ ডিগ্রি। হেলস অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৮ চার ৩ ছক্কায় ৮৫ রানে। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৮৪ রানের জুটিতে ৮ উইকেট এবং ১০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর রাইডার্স।

প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ডায়নামাইটস। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া রংপুরকে খেলায় ফেরান এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যালেক্স হেলস। তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৮৪ রানের জুটিতে দুর্দান্ত জয় পায় রংপুর।

ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮৬/৬ রান

সোমবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা ডায়নামাইটস। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসেই ঢাকার আফগান ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে সাজঘরে ফেরান ফরহাদ রেজা।

দলীয় ৩৫ রানে সাজঘরে ফেরার আড়ে ১৮ বলে ১৭ রান করেন জাজাই। অবশ্য ৪ রানেই সাজঘরে ফেরার কথা ছিল তার। মাশরাফির বলে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। কিন্তু শফিউল ইসলাম সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে না পারায় লাইফ পান হজরতউল্লাহ।

ফরহাদ রেজার পর নাজমুল ইসলাম অপুর আঘাত। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই ঢাকা ডায়নামাইটসের ওপেনার সুনীল নারিনের উইকেট তুলে নেন নাজমুল ইসলাম অপু। তার বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ফরহাদ রেজার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন নারাইন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৯ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ২৮ রান করেন ডায়নামাইটসের এই উইন্ডিজ অলরাউন্ডার।

৫১ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তৃতীয় উইকেটে রনি তালুকদারকে সঙ্গে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়তেই বিপদে পড়েন সাকিব। ফরহাদ রেজার বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ১২ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২৫ রান করেন সাকিব।

পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তাণ্ডব শুরু করতেই মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ফরহাদ রেজার ক্যাচে পরিণত হন আন্দ্রে রাসেল। ৮ বলে ১৪ রান করে ফেরেন রাসেল।

ব্যাটসম্যানদের এই যাওয়া-আসার মিছিলে একাই লড়াই চালিয়ে যান রনি তালুকদার। শফিউল ইসলামকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করা রনি ফেরন ৩২ বলে ৫২ রান করে।

সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমেই বিভ্রান্ত শুভাগত হোম চৌধুরী। মাত্র দুই বল খেলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই অলরাউন্ডার।

ইনিংসের শেষ দিকে কায়রন পোলার্ডের ২৩ বলের অপরাজিত ৩৭ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান তুলতে সক্ষম হয় ঢাকা ডায়নামাইটস। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২ উইকেট শিকারের পাশাপাশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন ফরহাদ রেজা। একটি করে উইকেট শিকার করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল ইসলাম অপু, শফিউল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

১৮৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫ রানে ক্রিস গেইল এবং রাইলি রুশোর উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছে রংপুর।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই রংপুরের হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে সাজঘরে ফেরান আন্দ্রে রাসেল। সুনীল নারিনের হাতে ক্যাচে তুলে বিদায় নেয়ার আগে ৬ বলে এক রান করার সুযোগ পান গেইল। এর আগের ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ২ রান করেন গেইল।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রাইলি রুশো। গত শুক্রবার চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা রুশো, আজ সোমবার রাসেলের বলে গোল্ডেন ডাক পান।

এরপর চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে ১৮৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয় উপহার দেন অ্যালেক্স হেলস। বিপিএলের ১৬তম সেঞ্চুরি করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৫০ বলে আট চার ও ছয়টি ছক্কায় ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন ভিলিয়ার্স। ৫৩ বলে আট চার ও তিন ছক্কায় ৮৫ রান করেন অ্যালেক্স হেলস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১৮৬/৬ (রনি ৫২, পোলার্ড ৩৭*, নারাইন ২৮, সাকিব ২৫; ফরহাদ ২/৩২)।

রংপুর রাইডার্স: ১৮.২ ওভারে ১৮৯/২ (ভিলিয়ার্স ১০০*, হেলস ৮৫*)।

ফল: রংপুর ৮ উইকেটে জয়ী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *