পাথেয় রিপোর্ট : তথাকথিত আহলে হাদিস তথা লা মাজহাবি-সালাফি মতবাদ প্রচারের নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটি ভোলা জেলা শাখা। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। দীর্ঘ যুগ যুগ ধরে আমরা শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করে যাচ্ছি। সম্প্রতি তথাকথিত আহলে হাদিস তথা লা-মাজহাবি ও সালাফি অনুসারীরা সামাজিক শৃঙ্খলা এবং মুসলিম ঐক্য বিনষ্টের জন্য ধর্মীয় বিরোধ সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আর ইসলামের নাম দিয়ে যারা ধর্মীয় বিভেদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এই লা-মাজহাবিদের এক অনুসারী ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বাবুল আহলে হাদিস তথা লা মাজহাবি-সালাফি মতবাদ প্রচারের নামে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তিনি এলাকায় মানুষের মাঝে আহলে হাদিস নামে ধর্মীয় বিষয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে। এমনকি কামরুল আহলে হাদিস কমপ্লেক্স নামে একটি আস্তানা তৈরির চেষ্টা করছে।
মাওলানা তাজ উদ্দিন বলেন, আহলে হাদিস কমপ্লেক্স থেকে কামরুল ইসলাম বাবুল রমজান মাসে ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে আজান ও বিকাল ৩টার সময় আসরের আজান প্রচার করে থাকে। যার ফলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ তার সে আস্তানাটি ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীকালে কামরুল এলাকার ১৯ জন নিরহ মুসল্লির নামে একটি মিথ্যা মামলা দেন।
তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে মুসলমানরা যে কালেমা পড়ে আসছে সে কালেমা নাকি শেরেকী কালিমা বলেও অপপ্রচার চালাচ্ছেন কামরুল। এটি নিয়ে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন বিশৃঙ্খলা চলে আসছে। বিষয়গুলো নিয়ে ভোলার আলেম সমাজ বেশ কয়েকবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। কিন্তু কামরুলের এ অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। এ নিয়ে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই আমরা বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে কামরুল ইসলাম বাবুলকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাওলানা বশির উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।


