মধ্যপ্রাচ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পণ্য তালিকা হচ্ছে

মধ্যপ্রাচ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পণ্য তালিকা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানে রফতানিযোগ্য পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্ত অনুযায়ী এসব দেশে এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ওই ছয়টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত গলফ কর্পোরেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সচিবালয়ে এ সুবিধা চেয়ে শিগগির পণ্য তালিকাসহ একটি আবেদন পাঠাবে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব পণ্য ওইসব দেশে রফতানি হয় সেসব পণ্যে যেন এ সুবিধা পাওয়া যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে তারা কাটছাঁট করে বেশকিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিল কিন্তু সেসব পণ্য বাংলাদেশ রফতানি করে না। এতে বাংলাদেশের তেমন কোনো লাভ হবে না।
সূত্র জানায়, গত ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের চতুর্থ সভা আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটিতে রফতানিযোগ্য পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলে, তারা জিসিসিভুক্ত দেশ, তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জিসিসি সচিবালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ যেসব পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা চায় সেসব পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় এখন পর্যন্ত ১৩৭টি পণ্য রাখা হয়েছে।

এ তালিকায় পণ্য সংযোজন বা বিয়োজনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআইসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সুচিন্তিত মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গলফ কর্পোরেশন কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি দেশে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্ত অনুযায়ী শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশ। তাই ওইসব দেশে এ সুবিধা পাওয়ার দাবি জানিয়ে জিসিসি সচিবালয়ে একটি পণ্য তালিকাসহ শিগগিরই আবেদন পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৩৭টি পণ্য রেখে তালিকা প্রণয়ন করেছে। তবে ১৩৭টি পণ্য রাখাই ভালো হবে নাকি আরও কমানো বা বাড়ানো হবেÑ সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে সংশ্লিষ্টদের নিকট চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের সুচিন্তিত মতামত পেলে পণ্য তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এসব দেশে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পাই তাহলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি বেশি পণ্য সেসব দেশে রফতানি করে লাভবান হবেন। ফলে অন্য সব প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে আমরা সক্ষম হব। পাশাপাশি সেসব দেশের জনগণও কম মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে পারবে। আমরা যদি ১৩৭টি পণ্যের তালিকা পাঠাই তারপরও সব পণ্যে তো তারা এ সুবিধা নাও দিতে পারে। সেজন্য পণ্যের তালিকা প্রস্তুতে সকলের মতামত নেয়া হচ্ছে।
ওইসব দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে বাংলাদেশ কতটুকু আশাবাদীÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী তো আমরা এ সুবিধা পাই। কিন্তু সুবিধা দিলে আমাদের সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশকেও এ সুবিধা দিতে হবে। তাই এ সুবিধা পেতে একটু সমস্যাও রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি কিছু সংখ্যক পণ্যে হলেও আমরা সুবিধা পাব।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি তালিকায় যেসব পণ্য রাখা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ নারী ও পুরুষের জন্য তৈরি পোশাক ও অ্যাপারেল পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফল ও সবজির জুস, হিমায়িত মাছ; বেকারি পণ্যের মধ্যে রয়েছেÑ ব্রেড, পেস্ট্রি, কেক ও বিস্কিট; মিনারেল ওয়াটার, কটনের তৈরি টয়লেট লাইলেন ও কিচেন লাইলেন, সুইট বিস্কিট, প্লাস্টিক পণ্য ও টেক্সটাইল পণ্য ইত্যাদি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, ওই ছয়টি দেশে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পেলে রফতানি বাড়বে। ফলে বেশি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে কোন কোন পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিচ্ছে দেশগুলো। বাংলাদেশ থেকে সেসব দেশে যেসব পণ্য রফতানি হয় সেসব পণ্যে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ওইসব দেশে রফতানি হওয়া পণ্যের বড় অংশ হচ্ছে সবজি, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য (চিপস, মসলা, আচার, বাদাম); পাট ও পাটজাত পণ্য। এর বাইরে বেশি রফতানি হয় হিমায়িত খাদ্য, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, এগ্রো পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *