মনোহরদীতে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৮

মনোহরদীতে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৮

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নরসিংদী মনোহরদীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। এতে আটজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এ ছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

রবিবার দুপুর ২টার দিকে জেলার মনোহরদী হাফিজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বিএনপির নেতাকর্মীদের পার্শ্ববর্তী শিবপুর ও কিশোরগঞ্জের ভাগলপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, খুন গুম ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে মনোহরদী উপজেলার হেতেমদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। অপরদিকে একই সময় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চন্দনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দোয়া, মিলাদ ও গণভোজের আয়োজন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি দুটি সভা হওয়ায় সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বেলা ১টার দিকে হাফিজপুর গ্রাম থেকে বিএনপির সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী, জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান দোলনসহ জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় মিছিলের সামনের নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে এগোতে থাকে। মিছিলটি কিছুদূর গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের সাথে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করতে রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছোড়ে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্য নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানসহ ১০ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আটজন গুলিবিদ্ধ হয়।

সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, মিছিল নিয়ে বের হওয়ার পরই পুলিশ অতর্কিত আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ২৭ জন গুলিবিদ্ধ সহ ৩৮ জন আহত হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান জানান, মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দা-সহ মিছিল বের করেন। তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশের ১০ জন সদস্য আহত হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *