মসজিদুল আকসা ঘিরে ফিলিস্তিনিদের স্রোত, সতর্ক ইসরাইল

মসজিদুল আকসা ঘিরে ফিলিস্তিনিদের স্রোত, সতর্ক ইসরাইল

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : শুক্রবার আল কুদস দিবস। ইসরাইলি দখলদারির বিরোধিতা ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি সংহতি জানানোর দিন। প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়। এদিনকে সামনে রেখে শুক্রবার ফিলিস্তিনের প্রস্তাবিত রাজধানী জেরুজালেমে মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসায় জুমার নামাজ পড়বেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।

এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিমতীর থেকে ফিলিস্তিনিরা দলবেঁধে আল আকসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তবে দখলদার ইসরাইলি সেনারা সবাইকে আল আকসায় যাওয়ার অনুমতি দেবে না। এক্ষেত্রে যারা বাধার মুখে পড়বেন তারা ইসরাইলি চেকপোস্টগুলোকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাবেন।

এ সময়ে তারা হলোকাস্টের আদলে পোশাক প্রদর্শন করবেন। এতে ডোরাকাটা দাগের ইউনিফর্মও থাকবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে সংখ্যালঘু ইহুদিদের হত্যা করতে নাৎসি ক্যাম্পে নেয়ার আগে এ ধরনের পোশাক পরতে বাধ্য করা হতো।
ফিলিস্তিনি বিক্ষোভের আয়োজকরা বলছেন, আজ হলোকাস্টের আদলে পোশাক পরার মাধ্যমে তারা এই বার্তা দিতে চান যে, হালোকাস্টের জন্য ফিলিস্তিনিরা দায়ী না, অথচ তাদেরকেই তার খেসারত দিতে হচ্ছে।

তারা বলেন, আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই, নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল মানবতাবিরোধী অপরাধ জড়িত রয়েছে। এখনো ফিলিস্তিনিদের রক্তের স্রোত বয়ে চলছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে প্রচারপত্র বিতরণ করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এতে গাজাবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আপনারা হামাসকে সেই সুযোগ দেবেন না, যাতে তারা নিজেদের স্বার্থে আপনাদের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।

শুক্রবারের বিক্ষোভে গত ১৪ মের মতো লোকসমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেরুজালেমে ইসরাইলি দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ওই দিনের বিক্ষোভে ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

আল আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে জেরুজালেম দিকে কিংবা ইসরাইলি তল্লাসি চৌকিগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদেরও মার্চ ফর রিটার্নের বিক্ষোভ যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে থাকলেও পশ্চিমতীরের কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ সংগঠনের।
আগের বিক্ষোভগুলোর মতোই এবারও সেনাবাহিনী ও স্নাইপার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।

এর আগের ১১টি বিক্ষোভে ১২৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত ও ব্যাপক সংখ্যক আহত হওয়ার পরেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভের সংগঠকরা বলেন, তারা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে চান, নিজ ভূমিতে ফেরাসহ ফিলিস্তিনিরা অব্যাহতভাবে তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবি জানিয়ে যাবে।

শুক্রবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে গাজাবাসী ঘুড়ি তৈরিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শুক্রবার তারা কয়েক ডজন জ্বলন্ত ঘুড়ি ইসরাইলের ভেতর পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন।

এক ফিলিস্তিনি বলেন, তিনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। বিক্ষোভের প্রথম দিন শিশুদের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকার ঘুড়ি দেখে তার মাথায় এ ধারণা আসে।

তিনি বলেন, ঘুড়ি দ্রুতই উড়ে ইসরাইলের দখল করা ভূখণ্ডের ভেতর ঢুকে যেতে পারে। এর পরেই এর সঙ্গে জ্বলন্ত কিছু জুড়ে দেয়ার কথা আমার মাথায় আসে।

তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসী না। শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধে আমাদের একটা প্রজন্মের সব আশা-ভরসা শেষ হয়ে গেছে। ১৯৪৮ সালে ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি নিজেদের বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত হন।

এসব ফিলিস্তিনি পার্শ্ববর্তী আরব দেশ, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও গাজায় শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে গ্রেট মার্চ ফর রিটার্ন আন্দোলন শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া গত একযুগ ধরে গাজা উপত্যকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। সেখানে সীমান্ত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এতে উপত্যকাটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানকার অর্থনীতিও প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

গত ১৪ মে তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে ৬২ জন নিহত হন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *