মসজিদে দগ্ধদের বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা

মসজিদে দগ্ধদের বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ডাক্তার-নার্সরা। এই ইনস্টিটিউটের একাংশে করোনার চিকিৎসা চললেও দগ্ধদের চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র পিছপা হননি চিকিৎসকরা।

শুক্রবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত দগ্ধদের চিকিৎসা সেবা দেখভাল করতে ইনস্টিটিউটে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম, ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. সামান্ত লাল সেন। সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন ৩৭ জন। এরমধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় বাকি সবারই অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক বিস্ফোরণে দগ্ধদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিত্সা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধদের স্বজনদের হাসপাতালে আহাজারি যেন থামছেই না।

করোনা রোগী বাড়ায় বার্ন ইনস্টিটিউটে কোভিড রোগীদের সেবা প্রদান হচ্ছে। বিশেষায়িত এই হাসপাতালের একাংশকে কোভিড হাসপাতাল করাঠিক হয়নি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ওই সময় চিকিৎসকরা আপত্তি করলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এক শ্রেণির দালাল চিকিৎসক কোভিড হাসপাতাল করার ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়েছিল। তারা বলেন, সারা দেশ থেকে পোড়া রোগীরা এখানে আসেন। দেশে বছরে ১০ লাখ মানুষ দগ্ধ হয়। এর ৯৯ শতাংশেরই প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়; যা ব্যয়বহুল চিকিৎসা। কিন্তু এখানে এটা ফ্রি করা হয়।

শুক্রবার রাত থেকে প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও দগ্ধ রোগীদের শতভাগ চিকিত্সা সেবা প্রদান করেন ডাক্তার-নার্সরা। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানান, কার্বন মনোক্সাইড বিষাক্ত গ্যাস। নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণের পর এই গ্যাসের কারণে দগ্ধরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দগ্ধ সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি কম পুড়ে গেছে এমন তিন থেকে চার জন বেঁচে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান গতকাল দুপুরে বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের দেখতে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও চিকিত্সকদের সঙ্গে আমি বৈঠক করেছি। তাদেরকে বলেছি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য।

আবদুল মান্নান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার রাত থেকে একাধিকবার খোঁজ নিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন চিকিৎসায় আর কী কী করা যেতে পারে। সর্বোচ্চ কী চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে, দগ্ধদের জন্য কী করা যায়। তিনি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *