মাছ আমদানি বন্ধ হলে লাভবান হবেন চাষিরা

মাছ আমদানি বন্ধ হলে লাভবান হবেন চাষিরা

মাছ আমদানি বন্ধ হলে লাভবান হবেন চাষিরা

ইলিশ পাচার হচ্ছে ভারতে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাইরে থেকে মাছ আমদানি বন্ধ হলে দেশের চাষিরা লাভবান হবেন। ভারতে এদেশের মিঠা পানির সাদা মাছের চাহিদা থাকায় বেনাপোল দিয়ে মাছ রফতানি বাড়ছে। এদিকে পাচার হচ্ছে ইলিশ মাছও। প্রমাণ পাওয়া গেছে সম্প্রতি বিএসএফয়ের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের হাতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা ৩ হাজার ৮৮৮ কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন ভারতীয় পাচারকারী। তবে ভারতীয় মাছের দাম কম থাকায় ভারত থেকে রুই জাতীয় মাছ এখনও দেশে আসছে। দেশের মাছ চাষিরা বলছেন, ভারত থেকে মাছ আমদানি বন্ধ হলে তারা লাভবান হতেন।

বেনাপোলের ফিশারিজ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে মাছ রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩০ কেজি এবং গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রফতানি হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৮ কেজি মাছ। একইসঙ্গে ভারত থেকে এদেশে মাছ আমদানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ১৬ হাজার ৩২৫ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ কেজি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৯১৫ কেজি। ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারত থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৬৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫৮৭ কেজি সাদা মাছ আমদানি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতে রফতানি হয়েছে ৯৯ লাখ ১০ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলার মূল্যের ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১২৪ কেজি মাছ।

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, ভারত থেকে আমদানি হয় রুই, কাতল, সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির মাছ। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় পাবদা, গুলশা, টেংরা, পাঙ্গাস, হিমায়িত চিংড়ি, কার্প, ভেটকিসহ অন্যান্য মাছ। এর মধ্যে পাবদা মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় মোট রফতানির ৪০ শতাংশই পাবদা। পাবদা মাছ বেশি উৎপাদিত হয় যশোর জেলায়।

তিনি বলেন, ভারত থেকে যেসব মাছ আমদানি হচ্ছে সেগুলো এখন স্থানীয়ভাবেই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। বর্তমানে এ জাতীয় মাছ আমদানি না করলেও অসুবিধা নেই। আমদানি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা ব্যাপক লাভবান হতেন।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, দাম কম হওয়ার কারণে ভারত থেকে রুই-কাতল আমদানি হচ্ছে। এসব মাছের থেকে আমাদের দেশের রুই মাছের স্বাদ অনেক ভালো। সে কারণে দেশের মাছ চাষিরা মৌখিকভাবে ভারত থেকে সাদা মাছ আমদানি বন্ধের দাবি করে আসছে। এটি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা লাভবান হবেন। এক সময় ভারতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ রফতানি হতো। ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার।

শার্শার মাছ আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবাই জানান, বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে যে সব সাদা মাছ আমদানি হয় তার ব্যাপক চাহিদা আছে দেশে। এখন বর্ষা মৌসুমে মাছের আমদানি কিছুটা বেশি। কিন্তু আমরা তো সারাবছর মাছ আমদানি করি। ঘাটতির সময়ে আমরা তা পূরণ করি।

এদিকে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা ৪ হাজার কেজির বেশি বাংলাদেশি ইলিশ ধরা পড়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফয়ের হাতে। সম্প্রতি বিএসএফয়ের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের হাতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা ৩ হাজার ৮৮৮ কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন ভারতীয় পাচারকারী। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীন সীমান্ত এলাকায় ধরা পড়েছে ৫০০ কেজি ইলিশ। এই ফ্রন্টিয়ারের সীমান্ত এলাকা হলো মালদহ ও মুর্শিদাবাদ। আর দক্ষিণবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাচার হয়ে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত থেকে। এ ছাড়া এই বনগাঁও এবং বসিরহাট মহকুমার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সীমান্ত নদী ইছামতী দিয়েও পাচারকারীরা ইলিশ পাচার করছে নদীপথে।

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি এসএস গুলারিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, চলতি মৌসুমে যে পরিমাণ ইলিশ ওপার থেকে এপারে চোরাইপথে এসেছে তা আগে কখনো হয়নি। তবে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের পাচারের পরিমাণ কম। এখন অবশ্য দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সীমান্ত এলাকা ইলিশ পাচারের অন্যতম করিডর হিসাবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত এই রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে চোরাইপথে আসা ইলিশ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৩৮৮ কেজি।

এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতায় সরকারিভাবে আসা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ইলিশ । বাংলাদেশ সরকার আসন্ন দুর্গাপূজার কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ইলিশ আসে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলসীমান্ত পথে। প্রথম দিন আসে ২০ টন ইলিশ। ওই দিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইলিশ আসছে কলকাতায়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় ইলিশ এসেছে ৭৭৫ টন।

মঙ্গলবার আসছে আরও ৭০ টন। আর বাকি সব ইলিশ কলকাতায় চলে আসবে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে।

কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আজ মঙ্গলবার দুপুরে জানান, এখন বাংলাদেশের ইলিশের দাম কলকাতায় কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭৫ টন ইলিশ কলকাতায় এসেছে। আজ মঙ্গলবার আসছে আরও ৭০ টন ইলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *