মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: যেসব পুলিশ ও আনসার মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা সংকটের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়জিত কনস্টেবলরা। আক্রান্ত মৃতের সৎকার, আক্রান্তের পর পালালেও সেই রোগীকে ধরে আনা, আক্রান্তের বাসা বা ভবন লকডাউনে সরাসরি কনস্টেবলদের উপস্থিতিই বেশি। প্রতিনিয়ত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ায় তাদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় কনস্টেবলদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা দরকার।

তিনি বলেন, পেট্রল ডিউটি, চেকপোস্ট কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালেও দায়িত্ব পালনকারী বেশিরভাগ সদস্য পুলিশ ব্যারাকে থাকেন, যেখানে একটি রুমে অন্তত ১২ জন সদস্য বসবাস করেন। এটা তাদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতে পুলিশের ২ লক্ষাধিক সদস্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থেকে নিরন্তর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রথমত তাদের মধ্যে ব্যপকভাবে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। নিয়মিত সেসব সচেতনতার বার্তার বিষয়ে সদস্যদের আপডেট করা হচ্ছে। এছাড়া, সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিত পুলিশ লাইনসে গিয়ে সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন।

পাশপাশি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাস্ক এবং হ্যান্ডগ্লাভসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পুলিশলাইনস এবং ব্যারাকে পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। অফিস এবং পুলিশ লাইনসের প্রবেশমুখ সুরক্ষিত করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যারাকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে বেডগুলো রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখতে নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আক্রান্তদের সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা নিশ্চিতে পুলিশ হাসাপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী এবং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, পুলিশ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে করোনার জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আরও উন্নত চিকিৎসা কিংবা অবজারভেশনের দরকার হয় বা কোনো কারণে সম্ভব না হয় তাহলে তারা পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ করে করোনার যে স্পেশালাইজড হাসপাতাল সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

আর পুলিশ ব্যারাকের প্রতিটা ফ্লোর বা যেখানে যেখানে করোনার জীবাণু থাকতে পারে সেগুলো প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক দ্বারা ধৌত করা হচ্ছে। যারা ডিউটিতে যাচ্ছেন তাদের আলাদাভাবে হাত ধোয়ার সরঞ্জাম ও মাস্ক, পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন তারা নিজেরা যেন আগে বিধিগুলো মেনে চলেন সেজন্য নিয়মিত ব্রিফ করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্টের জায়গা থেকে পুলিশ সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং চারজন গর্বিত সদস্য দেশের জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন। আমরা তাদের জন্য গর্বিত।

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা তাদের এই ত্যাগকে, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন এবং মনোবলের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের মনোবল যেন অটুট থাকে সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাদের লাইন চিফরা হাসপাতাল ভিজিট করছেন। এছাড়াও অসুস্থদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর রাখতে সদর দফতর থেকে স্ব স্ব ইউনিটকে জানানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *