‘মাদরাসাগুলো ভারতের স্বাধীনতা ও দেশীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে’

‘মাদরাসাগুলো ভারতের স্বাধীনতা ও দেশীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদরাসাগুলো ভারতের স্বাধীনতা ও দেশীয় ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়ার সংবাদিক সম্মেলনে মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদরাসাগুলো ভূমিকা ছিল। দেশপ্রেম সহিংসতা রক্ষার কথা মাদরাসাগুলোতে এখনও বলা হয়। তবে বর্তমানে ভারতে বিভিন্নভাবে মাদরাসাগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদিক সম্মেলনে দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক মাওলানা শওকত আলী বলেন, আমাদের নেতারা গান্ধীজীকে নেতা মেনেছিলেন। ধর্মের নামে, ভাষায় নামে, গোত্রের নামে বিভাজন করার অনুমতি নেই ইসলামে। ইসলামে জাতপাত নেই, হিংসা নেই, অসহিষ্ণুতা নেই।

মাওলানা শওকত আলী বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষা করে। বিনা খরচে তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরআগে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষণ রেড্ডি সংসদে নথি পেশ করে বলেছেন যে, পশ্চিমবাংলার মাদরাসাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, দুঃখের বিষয়, মাদ্রাসা শিক্ষা কী? এটি কেন দেওয়া হয়? কাদের দেওয়া হয়? এবিষয়ে কী তিনি কোন‌ও পড়াশোনা করেছেন? কখনও জানার চেষ্টা করেছেন?

তিনি বলেন, বলাবাহুল্য, সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে মদিনা শরীফের মসজিদের চাতালে দয়ার মুহাম্মদ সা. তাঁর অনুসারীদের শিক্ষা প্রদান করতেন যা আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত ছিল। সাড়ে ১৪০০ বছরের সেই ধারা পৃথিবীজুড়ে বেসরকারি মাদরাসার মাধ্যমে অব্যাহত আছে। ১৫০ বছর ধরে দারুল উলূম দেওবন্দের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার ফলে ভারতে অসংখ্য মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে এবং সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নামায- রোযা, ইসলামি আদর্শ, ব্যবহারশাস্ত্র, মহিলাদেরকে সম্মান করা, অপরের অধিকার কেড়ে না নেওয়া, দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের শিক্ষা মাদ্রাসায় দেওয়া হয়। খাগড়াগড়-কাণ্ডের সময় আমরা বলেছিলাম, এন‌আইএ পশ্চিমবঙ্গের কোন‌ও মাদরাসার সঙ্গে সন্ত্রাস যোগের প্রমাণ দিক। আমরাই সেই মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেব। আজ পর্যন্ত এন‌আইএ বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মাদরাসার সঙ্গে সন্ত্রাসযোগের কোন‌ও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি বলেন, মুসলিম নামধারী কেউ যদি কোন‌ওরূপ সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত থাকে, তাহলে সে ব্যক্তিগতভাবে দোষী। মাদরাসা ইস্যুতে ধর্মীয় বিভাজন ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আমি মনে করি। বাংলার মাদরাসা পরিচালকদের আমি বলব, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিয়ম মেনে মাদরাসা পরিচালনা করুন। মাদ্রাসা ছিল, আছে এবং ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।

পা.টো.ড/আদিল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *