‘মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলুন’

‘মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলুন’

পাথেয় রিপোর্ট : জেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর টাঙ্গাইল আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর বেসামরিক প্রধান, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আনোয়ার উল আলম শহীদ বলেন, ‘মাদরাসার ছাত্ররা শুধু ধর্মীয় বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করে। এ কারণে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও এর চেতনাগত চর্চা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে সবসময়।

আমরা চাই ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম’ ইতিহাস বিমুখ এই নাগরিকশ্রেণীর মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে প্রত্যেকটা মাদ্রাসায় পৌছে যাক। কারণ মাদ্রাসা ছাত্রদেরও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা খুবই প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে দলের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল আজ সেই দল সরকারে। কিন্তু এখনও নানা সময়ে নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বা সৎকার করা হয়।

কিন্তু আমাদের যে সংবিধান, সেখানে এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয় নাই। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই সরকারকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইনও করতে হবে। না হলে অন্য কোন সরকার এসে আর এটা দিবে না।’

আনোয়ার উল আলম শহীদ টাঙ্গাইলের একমাত্র ব্যক্তি যার উদ্যোগে গড়ে উঠে শহীদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

এ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কম, এদের পরিবারের সংখ্যাও কম, তাই সরকারেও এরা কম। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে সরকার কোন কিছু করতে চাইলেও সেটা নিচ থেকে এমন সব প্রোপ্রাজাল দেওয়া হয় যেন মনে হয় মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশটাকেই নিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের একটা কোঠা ছিল।

সেটা বন্ধের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির কি বিরাট আন্দোলন হল। সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা কোন আন্দোলন বা শাহবাগের মোড়ে অবস্থান না নিলেও বঙ্গবন্দু কন্যা শেখ হাসিনা বুদ্ধি দিয়ে সেটা রাখার ব্যবস্থা করেছেন বা রাখবে।

তিনি আগামী বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার বেড়ে ১২ হাজার থেকে কমপক্ষে ২০ হাজার করার দাবী জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ এর সভাপতি মোঃ ইউনুছ আলী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ টাঙ্গাইল এর সভাপতি আলহাজ আবু মোঃ এনায়েত করিম এবং ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম’ এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাও.নূরুদ্দীন জামালি।

অনুষ্ঠান বক্তব্য রাখেন নাগরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সুজায়েত হোসেন, বাসাইলের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় চারশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *