হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণের মতো নানা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলাধীন মুড়িয়ক গ্রামের বাসিন্দা ও তৎকালীন পাকিস্তানী নিজামী ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মৌলানা শফি উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ দুই সহচরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি নূর হোসেন ও স্থানীয় পুলিশ জানান, µxov †W¯‹ : বুধবার আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের আদালত কর্তৃক তৎকালীন পাকিস্তানী নেজামী ইসলাম পার্টি ও নেতা রাজাকার কমান্ডার মৌলানা শফি উদ্দিনসহ আরও দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারীর পর জেলার লাখাই থানার পুলিশ গ্রামের মৃত আতাব উল্লাহর ছেলে তাজুল ইসলাম ফোকন ওরফে ফোকন ও একই গ্রামের বাসিন্দা আশিক উল্লাহর ছেলে জাহিদ মিয়া ওরফে জাহিদকে গ্রেফতার করে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জোর গুঞ্জন অব্যাহত রয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামী তৎকালীন ওই পার্টির নেতা মৌলানা শফির পরিবারের সদস্যদের নিকট আগেই এমন অভিযান হতে পারে এই ধরনের খবর গুটি কয়েক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশী সোর্সের মাধ্যমে পৌঁছে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মামলার আসামী পায়ে হাটতে অক্ষম বয়োবৃদ্ধ মৌলানা শফিকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। অথচ পুলিশ বলছে, তারা খবর পেয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত অপর আসামী নাকি বাড়ীতে ছিল না।
সংশ্লিষ্ট মামলার এক স্বাক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শফি বি-বাড়িয়া থেকে এখন নাকি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাধীন আইল্লারা গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। ফলে শফিকে গ্রেফতারে পুলিশী ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রশ্নের উদ্ভব ঘটেছে।
বিগত ১৫’ সালের অক্টোবর মাসে জেলার লাখাই উপজেলার থানায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ কামাল বাদী হয়ে উল্লেখিত আসামীসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ পূর্বক একটি এজাহার দাখিল করেন। পরে ২০১৬ সালে ২২ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ কামাল বাদী হওয়া এই মামলাটি ট্রাইব্যুনালে রেকর্ডভুক্ত হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর হোসেন আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার হাতে মামলাটি চলে যাবার পর যথারীতি নিয়মে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কই বাদী হয়ে যান। ফলে হবিগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংঘটিত ৭১’এর ওই মামলার সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আইজিপি মো. আব্দুল হান্নান খান পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্ব¡াবধানে এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমি নুর হোসেন জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলার ৭১’এর সুনির্দিষ্ট নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনাস্থল একাধিকবার পরিদর্শনকল্পে তদন্তকার্য পরিচালনা করি এবং প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণসহ ভিডিও ফুটেজ ধারণ একং চক তৈরী করি। যার ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশেই ওই রাজাকারদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়।
এদিকে মৌলানা শফিসহ সহযোগি রাজাকারদের বিরুদ্ধে উক্ত একাধিক তদন্ত চলাকালে তদন্তকারী টীমের সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থা কর্তৃক গঠিত জেলা স্বাক্ষী ও ভিকটিম সুরক্ষা কমিটির মেম্বার সাংবাদিক রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন।


