ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচসিআর) ইসরায়েলবিরোধী মানসিকতা পোষণ করেÑ এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে কি না, সে ব্যাপারে বুধবার ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। কূটনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য মতে মানবাধিকার পরিষদে যে ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতদুষ্টতা রয়েছে, সেটা দূর করতে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে দেশটি জোট ত্যাগ করবে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত বিশেষ দূত নিকি হ্যালে গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আজ থেকে শুরু হওয়া তিন সপ্তাহব্যাপী ইউএনএইচসিআরের সম্মেলন শেষে তারা এ সংস্থায় থাকা-না থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তন রোধের স্বার্থে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত এরইমধ্যে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে সরে এলে তাতে আদতে ট্রাম্পের জোটবিমুখ মনোভাবের চূড়ান্ত প্রকাশ হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট ইউএনএইচসিআর প্রতিষ্ঠার প্রথম তিন বছর এ জোট থেকে দূরে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিপাবলিকান নেতা জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং সেবারও ইস্যু ছিল ইসরায়েল। ২০০৯ সালে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর এ জোটে যোগ দেন। এবার আরেক রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছেন। জাতিসংঘে বিশেষ মার্কিন দূত হ্যালে গত রোববার ওয়াশিংটন পোস্টে এক নিবন্ধে ইসরায়েলের মানবাধিকার প্রশ্নে ইউএনএইচসিআরের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা করে সমালোচনা করার চর্চাটা ভুল এবং সেটা বন্ধ করা উচিত।
নিবন্ধে তিনি আরো লিখেছেন, জোরালো মানবাধিকারের রেকর্ড থাকার পরও যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৭০টি প্রস্তাব পাস করা হয় এবং মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড থাকার পরও ইরানের বিরুদ্ধে মাত্র সাতটি প্রস্তাব পাস করা হয়, তখন আপনাকে বুঝতে হবে বড় ধরনের গলদ আছে। আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আপাতত করছেন না হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জেনেভা শাখার পরিচালক জন ফিশার। তাঁর মতে, আমরা যতটা বুঝতে পারছি, তাতে মনে হচ্ছে এটা লড়াই ও সংস্কারের বার্তা দিতে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনএইচসিআরের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে এমন একটা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা আছে যেটা উত্তর কোরিয়া বা সিরিয়া বা আর কোনো ব্যাপারে নেই। ব্যাপারটা ব্যতিক্রম। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখ- ইউএনএইচসিআরের একেবারে নির্ধারিত আলোচ্য বিষয়। সূত্র : রয়টার্স


