মানুষটির লাশ কোথায় : এরদোগান

মানুষটির লাশ কোথায় : এরদোগান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রসিদ্ধ সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় প্রথম থেকেই গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। অত্যন্ত দুঃখের সাথে তিনি বলেন, ‘হত্যার শিকার মানুষটির লাশ কোথায়? আমাদের সেসব প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার।’

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কনস্যুলেট কেন এতদিন পর আমাদের তদন্ত করার অনুমতি দিয়েছে? কেন তাদের বক্তব্যের মধ্যে একেক ধরনের তথ্য ছিলো? খবর আল জাজিরা।

মঙ্গলবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান পার্লামেন্টে দেয়া তার এক বক্তৃতায় বলেন, গত ২ অক্টোবর জামালা খাশোগিকে হত্যা করার কয়েক দিন আগেই সৌদি কর্মকর্তারা তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। ‘সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তবে ভুললে চলবে না যে এটি হয়েছে তুরস্কের মাটিতে। ….. প্রমাণ বলছে, পরিকল্পিত কাজের ফল হিসেবেই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ওই দলটি কেন ইস্তাম্বুল এসেছিলো? তাদের কে নির্দেশনা দিয়েছে?

এরদোগান সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ইস্তাম্বুলেই বিচারের আওতায় আনার সুযোগ দিতে আমি সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানাই।’ ‘সবার মনেই প্রশ্ন জাগছে কেন সেই ১৫ জন লোক ঘটনার দিনই ইস্তাম্বুলে এসেছিলো, কে তাদের নির্দেশদাতা সেটি আমাদের জানা দরকার’।

এরদোগান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি সরকার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। আমরা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই, শীর্ষ থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।’

সোমবারই তুর্কি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলে যে, মঙ্গলবার সকালে পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় এই রহস্য নিয়ে কথা বলবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি প্রকাশ করবেন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্তে বের হয়ে আসা অনেক না জানা কথা। তারা বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবারের বক্তৃতায় এই ‘নোংরা সত্য’ নিয়ে কথা বলবেন।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকেই রাজপরিবারের নীতির কট্টর সমালোচক খাসোগির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না। এ ঘটনায় তুরস্ক অভিযোগ তোলে যে সৌদি গুপ্তচররা কনস্যুলেটের ভেতরেই নির্যাতন ও হত্যার পর খাসোগির লাশ গুম করে ফেলেছে।

তবে ঘটনার পর থেকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করে আসছিল সৌদি আরব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত ২ অক্টোবর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখান থেকে তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি। এর পর থেকে এ বিষয়ে সৌদি আরবের বক্তব্য ছিল, খাসোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। অন্যদিকে তুরস্ত খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কনস্যুলটের ভেতরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে কনস্যুলট থেকে খাসোগি বের বের হওয়ার বিষয়ে সৌদির কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়।

সৌদি রাজপরিবার নীতির সামালোচনার কারণে প্রাণভয়ে প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান তিনি। এরপর গত ২ অক্টোবর তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন জামাল খাসোগি। এ সময় চেঙ্গিস কনস্যুলেট ভবনের বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খাসোগিকে কনস্যুলেট থেকে বের না হতে দেখে। তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন হেতিস।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *