মামলার চাপে কাঁপছে সু চির মিয়ানমার
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কমে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মিয়ানমারের করুণ আর্তি শুনবার অপেক্ষায় বিশ্ব। দেশটি বাস্তবেই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলায় নড়ে চড়ে বসেছে। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই টনক নড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্তে গণহত্যার দায় যে মিয়ানমারের এড়ানোর সুযোগ নেই, সেটা বেশ স্পষ্ট।
জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে দায়ের করা মামলায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দেশটির এ সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে বৈশ্বিকভাবে কতটা চাপে পড়েছে মিয়ানমার। আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দফা শুনানি এবং পাল্টা শুনানিতে অংশ নেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মামলার মুখোমুখি হয়ে হঠাৎ করে বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
বাংলাদেশের কূটনীতিকরা বলছেন, বৈশ্বিক চাপ থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের এটা আরও একটি কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এর আগেও তারা নানা চাপের মুখে বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা অত্যন্ত আন্তরিক।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেখুন, এটা মিয়ানমারের কৌশল। এর আগেও তারা এ ধরনের আচরণ করেছে।’ তবে এ প্রতিনিধি দলটির সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা মূলত রোহিঙ্গাদের সঙ্গেই আলোচনায় বসতে চায়। কারণ, রোহিঙ্গাদেরই প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে হবে দেশটির কর্তৃপক্ষকে। তারা যদি তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।


