পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সুনামগঞ্জের শাল্লায় গত ১৭ মার্চ হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়েছে তার একদল সমর্থক।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা আঙুল তুলছেন মামুনুল হকের দিকেই। আইনের দৃষ্টিতেও হুকুমের আসামী হিসাবে মামুনুল হক জবাবদিহির বাইরে নন।
মুসা আল হাফিজ
কওমী অঙ্গনের সুপরিচিত মুখ, কবি মুসা আল হাফিজ লিখেছেন,
আমি এমন অনুসারি চাই না,যে, আমাকে কেউ গালি দিলে তারা লাঠি হাতে নিয়ে ঘর-বাড়ী ঘেরাও করবে।
আমি বলবো, গালি আমাকে দিতেই পারে। আমাকে গালি দেয়া মানে ইসলামের অবমাননা নয়। আমাকে ইসলাম মনে করো না।
যখন তোমরা আমাকে গালি দেয়া বলতে ইসলামকে গালি দেয়া ভাবো,তখন আমাকে দেবতা বানাতে চাও।
তোমাদের এই আবেগ ইসলামী নয়,তোমাদের এই চাওয়া ইসলামী নয়।
আব্দুল্লাহ (ছদ্মনাম)
তরুন আলেম, অর্থনীতির ছাত্র আব্দুল্লাহ কড়া ভাষায় তার ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছেন, মামুনুল হকের কী আর সমালোচনা করা হয়েছে! এরচাইতে হাজার গুণ নিকৃষ্টভাবে নবীজী সা. এর কুৎসা রটানো হয়েছিলো।
কই রাসূলপ্রেমিরা তো দৌড়ে যাননি কাফেরপল্লীর বাড়ি লুট করতে? ভাংচুর করতে? মামুনুল হোক তাহলে নবীর চাইতেও বড় কেউ?
আচ্ছা নবীর চাইতে বড় কে আছে? নিশ্চয়ই খোদা৷ মামুনুল হক কি তাহলে খোদা? কথা বলেন না কেন আপনারা? নাকি খোদার পুত্র? (নাউযুবিল্লাহ)
খোদাকেও গালি দিলে এমন সাজা হয় না, মামুনুল হককে গালি দিয়ে হিন্দুদের আজকে যেই দুর্দশা হলো। চিল্লায়া বলেন ঠিক কিনা?
পারেন তো কেবল চিল্লাইতে। সবকিছু চলে যাবে নষ্টদের দখলে।
মাওলানা আব্দুর রহমান (ছদ্মনাম)
চট্টগ্রামের একটি মাদরাসার শিক্ষক ও খতীব মাওলানা আব্দুর রহমান লিখেছেন, কর্মীদের উগ্রতার দায় কেন মাওলামা মামুনুল হক নিবেন না? তার উস্তাকানিতেই এই কাণ্ড ঘটেছে। আপনাদের কী মনে হয়, এতোবড় কাণ্ড তারা ঘটিয়ে ফেলেছে পরিকল্পনা মাফিক আর কেউ মাওলানা মামুনুল হককে ফেসবুকে মেসেজ করে জানায়নি?
দাড়িতে মেহেদী রাঙানো এই মধ্যবয়সী আলেমের ৭৪৮ শব্দের ব্যাপ্তি নিয়ে লেখা এই পোস্টে ছাত্রজনতাকে সম্বোধন করে পূর্বের নজীর টেনে বলা হয়েছে, ভাস্কর্য আন্দোলনের সময় নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে তরুণদের ক্ষেপিয়ে তুলে সময়মত ঠিকই মামুনুল হক আপোষে গিয়েছেন। মাঝখান দিয়ে বায়তুল মোকাররমে মিছিল করতে গিয়া গণপিটুনি খেয়েছে সাধারণ ছাত্ররা।
তিনি বলেন, বিষয়টা মোটেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। বাংলাদেশে ইসলামের সামগ্রিক দূর্দশার চিত্র এটি। আল্লাহ-নবী-ইসলাম-শরীয়ত আর সাধারণ আলেম, সবাইকে আজ এক স্তরে মনে করছে বাংলাদেশের মুসলমানরা। এর পেছনে আলেমরাই দায়ি, হিন্দু ব্রাহ্মণদের থেকে পাওয়া শিক্ষায় তারা নিজেদেরকে জনসাধারণের সামনে এভাবেই উপস্থাপন করেছেন।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনৈক মাওলানা জুনায়েদ ভান্ডারীকে ব্যবহার করে মামুনুল হক কোন ষড়যন্ত্র সৃষ্টি পারেন বলে তিনি সবাইকে সতর্ক করেছেন।
এদিকে ফেসবুকের নতুন ট্রেন্ড মিম তৈরীতেও পিছিয়ে নেই মাদরাসা ছাত্ররা। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম এর হাতে এমন দুটি মিমও এসেছে, যার একটিতে মামুনুল হকই তার কর্মীদের লাঠিসোটা নিয়ে মানুষের উপর হামলে পড়তে করতে শিখিয়েছেন এমন বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
অপর মিমটিতে মামুনুল হককে ভারতের ভন্ড ধর্মগুরু রাম রহিমের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যাকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করলে তার সমর্থকরা পুলিশের উপর হামলা করে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর-লুটতরাজ চালায়। যদিও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে নিজ পালককন্যা সহ আরও অনেক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেন।




