পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহিত নীতি আমেরিকার ধ্বংস ডেকে আনতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আমেরিকার মুসলিম নেতা লুই ফারাখান। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি ‘আমেরিকাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে; যদিও মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে ইরানের সরকারকে শাস্তি দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য।
ইরান সফররত ফারাখান বৃহস্পতিবার ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি’র সদরদপ্তরে এক সাংবাদ সম্মেলনে তার মতামত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকার প্রতি বিশ্ববাসীর বিশ্বাস ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিচ্ছেন ট্রাম্প।
লুই ফারাখান বলেন, আমাদের সরকারের নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা এমন এক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে যা বিশ্ববাসী কখনো দেখেনি। মধ্যপ্রাচ্যের সেই যুদ্ধ বাইবেলে বর্ণিত আরমাগেডন যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
খিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে শেষ বিচারের আগে সত্য ও অসত্যের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যাকে আরমাগেডন যুদ্ধ বলা হয়।
আমেরিকা-ভিত্তিক ‘নেশন অব ইসলাম মুভমেন্ট’র নেতা লুই ফারাখান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ইসরাইলের পীড়াপীড়িতে আপনি যদি আপনার মিত্রদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দুয়ার খুলে দেন তাহলে যে সংঘাত সৃষ্টি হবে তাতে চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের সব দেশ জড়িয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সে যুদ্ধে আপনি যে আমেরিকাকে চেনেন তার আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। আপনি যদি এ সতর্কবার্তায় কান দিয়ে আপনার চলার গতি পরিবর্তন না করেন তাহলে (আমিরকার) মৃত্যু অনিবার্য।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা ৬ আগস্ট থেকে বাস্তবায়ন করা হয় এবং দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা ৫ নভেম্বর থেকে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আজ সোমবার থেকে এমন ‘কঠোরতম’ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যা আগে কখনো করা হয়নি। তিনি ও তার উপদেষ্টারা একই কথার পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে আমেরিকার প্রধান টার্গেট নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন ও ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া যাতে ইরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ে। অর্থাৎ আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করা। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের লক্ষ্য ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনা। এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা চায় ওয়াশিংটনের ইচ্ছা অনুযায়ী তেহরান যাতে তার নীতিতে পরিবর্তন আনে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা।
সূত্র : পার্সটুডে


