পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দকে একটি স্বভাবসুলভ ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক। পৃথিবী বিখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার আওলাদে রাসূল সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ. তনয় সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামা হিন্দকে এ আখ্যা দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের বৃহওম সমাজসেবামূলক অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ। এবার জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ শতবর্ষে পা দিতে চলেছে। তার শতবর্ষের বার্ষিক সম্মেলন হতে চলেছে বিশ্ব প্রখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দে।
জমিয়ত সূত্রে জানা যায়, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানেও তারা দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত। এইসব দিক দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে সিআইএ জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ সেবামূলক ধর্মীয় সংগঠন বলে উল্লেখ করেছে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকে’।
এছাড়া আরও উল্লেখ করা হয় জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ ভারতর্ষের তথা উপমহাদেশের বৃহওম সংগঠন।
সিআইএ প্রকাশিত বইয়ের মানচিত্রকে নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে দক্ষিণপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো সিআইএকে ভারতবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে। একটি দৈনিক পত্রিকার সূত্রের খবর আরএসএস সদস্য প্রবীন কুমার প্রশ্ন তুলেছেন, মাহমুদ মাদানী নেতৃত্বাধীন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ ধর্মীয় সংগঠন উল্লেখ করলেও উগ্র হিন্দু গোষ্ঠীগুলোকে জঙ্গি সংগঠন বলা হচ্ছে কেন? বুদ্ধিজীবী মহলের জবাব এই দিয়েছেন, সিআইএ যোগ্য হিসাবেই তারা বিচার করেছে।
বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ জমিয়ত মহাসচিব মাহমুদ মাদানী নীরবে যে ভাবে দেশের সেবা করে চলেছে তার জন্য জাতীয় স্তরের সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়ার দাবিও তুলেছেন। দেশের শিক্ষিত মহলের ক্ষোপ আন্তজার্তিক স্তরের কিছু পুরস্কার পেলেও মাহমুদ মাদানীকে জাতীয় স্তরের কোনো পুরস্কার তাকে দেওয়া হয়নি।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী কেবল ভারতে নয়, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, সাউথ আফ্রিকা, ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের সবখানে রয়েছে তার মানবিক কাজের ফসল। তিনি যেখানেই মানবতা ধুঁকতে শুরু করেছে সেখানেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সত্যটা উঁচুতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
বাংলাদেশে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাদের সেবায়ও মাহমুদ মাদানী ছিলেন অনন্য এক ভূমিকায়। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ এর বুধবার দিনভর ত্রাণকাজে সরাসরি নিজে যুক্ত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল, ফেদায়ে মিল্লাত, আমীরুল হিন্দ, আওলাদে রাসুল, মাওলানা আসআদ মাদানী রাহিমাহুল্লাহ আলাইহির সুযোগ্য সাহেবজাদা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামা হিন্দের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণে তিনি অংশ নেন বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন জানান, হযরত মাহমুদ মাদানী কলকাতা থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় জেট এয়ারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ প্রদানের জন্য সোয়া একটার ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজারে আসেন।
জমিয়তে উলামা হিন্দ ও আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ পরিচালিত ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে দীর্ঘ মেয়াদি ত্রাণ কার্যক্রমের সূচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।
ভারতের কেরালায়ও মাওলানা মাহমুদ মাদানী দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এনআরসির বিষয়েও তিনি তৎপর ভূমিকা রেখে চলেছেন।
ধর্মীয় বেত্তাগণ বলছেন, ভারতের সম্মানের সব পদক পাওয়ার যোগ্য সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। এখনো সম্মানীয় কোনো পদক পাননি তিনি।


সূত্র : বেঙ্গলরিপোর্ট
সূত্র সহযোগিতা : জাকির হোসাইন
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


