মা সাহিত্য বুঝেন না; তবুও সাহস যোগালেন

মা সাহিত্য বুঝেন না; তবুও সাহস যোগালেন

মা সাহিত্য বুঝেন না; তবুও সাহস যোগালেন ● আতিক ফারুক

মা তার সুখ দুঃখের গল্প আমাকে বলেন। আমি আমার সুখ দুঃখের গল্প তাকে বলি। দিনদিন আমরা বন্ধুতে পরিণত হচ্ছি। শ্রেষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমি আমার মাকে নির্বাচন করেছি— দেখলাম, মার কত দুঃখ! তার এই দীর্ঘ জীবনে সুখ নেই বললেই চলে— তবুও, কী নির্বিবাদে তিনি আমাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। দুঃখগুলো লুকিয়ে রাখেন যেন আমরা তার দুঃখে দুঃখী না হই।

মা সাহিত্য বুঝেন না; শিল্প কি জিনিস— সেটাও জানেন না। তবু কী অপার বিস্ময়ে তিনি আমাকে সাহস যোগালেন। এইসব প্রেরণা, সাহস, মায়ের মতো শ্রেষ্ঠ বন্ধু ছাড়া আর কে দিতে পারে!

মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদিনি কখনো— মা তার আঁচলে মুখ ঢেকে কেঁদেছেন বহুবার; এমন দৃশ্য শৈশবে আমরা প্রায় দেখতাম আর দুঃখী হতাম। আমরা আমাদের মাদের প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসি— কিন্তু, কেন যেন বলা হয় না; বোধহয় তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয় নি বলেই এইখানে তুমুল লাজুকতা কাজ করে।

একজন শ্রেষ্ঠ অথচ বিশ্বস্ত বন্ধু এখন আমার মা। আমি মায়ের সাথে হরেকরকম গল্প বলি, মা আমাকে সাহস দেন— সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেন; আমি আমার মায়ের ভালোবাসার জায়গাটাকে আরো পোক্ত করতে শুরু করেছি— আমাদের উশৃংখল সমাজব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি আর বিদঘুটে মনোভাব মা-ছেলের, পিতা-মাতা কিম্বা সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে বলেই এতো এতো অস্থিরতা প্রায়শই আঁকড়ে ধরে আমাদের।

মা সাহিত্য বুঝেন না; শিল্প কি জিনিস— সেটাও জানেন না। তবু কী অপার বিস্ময়ে তিনি আমাকে সাহস যোগালেন। এইসব প্রেরণা, সাহস, মায়ের মতো শ্রেষ্ঠ বন্ধু ছাড়া আর কে দিতে পারে! আমি আমার মাকে এখন বন্ধু ভাবি— আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু মা-ছেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা এখন একে অন্যর ভালো বন্ধু। কাউকে না বলতে পারা কথাগুলো এখন আমি আমার বন্ধুর কাছে বলে ফেলি অনায়াসে।

লেখক পরিচিতি-
আতিক ফারুক
জন্ম : ৮ অক্টোবর ১৯৯৮
শিক্ষার্থী
প্রকাশিত বই : এখানে আরেকটু রোদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *