মিত্রশক্তি প্রদর্শনে কিউবায় রুশ যুদ্ধজাহাজ

মিত্রশক্তি প্রদর্শনে কিউবায় রুশ যুদ্ধজাহাজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্নায়ুযুদ্ধের মিত্র কিউবায় পৌঁছেছে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ। বহরে রয়েছে একটি পারমাণবিক সাবমেরিনও। রুশ যুদ্ধজাহাজের এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার ও শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাতে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার মার্কিন প্রতিবেশি কিউবায় পৌঁছেছে রুশ নৌবহর। বহরটিতে রয়েছে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গোর্শকভ, পারমাণবিক সাবমেরিন কাজান, একটি উদ্ধারকারী টাগ এবং একটি তেল ট্যাঙ্কার।

জাহাজগুলো হাভানা উপসাগরে নোঙর করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্য থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত। চারটি জাহাজের বহর বুধবার সকালে হাভানা বন্দরে প্রবেশ করলে ২১টি গুলি ছুঁড়ে গান-স্যালুট জানানো হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যাডমিরাল গোর্শকভ ফ্রিগেট এবং কাজান সাবমেরিন উভয়ই হাইপারসনিক মিসাইল জিরকনসহ উন্নত অস্ত্রের বাহক। এর আগে তারা আটলান্টিকে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছিল।

তবে এবার কোনো মহড়া নয়, এটা অনানুষ্ঠানিক একটি সফর। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজের ক্রুদের বিশ্রাম নিতে ও কিউবার স্থানীয় পর্যটন স্পট ঘুরে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কিউবানরাও সুযোগ পাবে নৌবহরটি ঘুরে দেখার।

কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজগুলোর কোনোটিতেই পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং রুশ নৌবহরের পাঁচ দিনের সফর এই অঞ্চলের কারও জন্য কোনো হুমকি নয়।

যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা রুশ নৌবহরের এই সফরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিউবার কাছাকাছি আসার পর থেকেই রাশিয়ান জাহাজগুলোকে অনুসরণ করে চলছে মার্কিন নৌবাহিনীর সমুদ্র ড্রোন।

রাশিয়া এর আগেও কিউবায় যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে এবং যেহেতু, দুটি দেশ দীর্ঘদিনের মিত্র। তবে এবারের যুদ্ধজাহাজের সফর বিশেষ ইঙ্গিত বহন করছে। কেননা, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ করছে রাশিয়া, অন্যদিকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে পূর্ণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় মিত্ররা।

ইউক্রেন ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রুশ নৌবহরের হাভানা ভ্রমণকে অনেকে মস্কোর ‘সামরিক আস্ফালন’ হিসেবেই দেখছে। আর এটি ওয়াশিংটনের বাড়ির উঠোনে গিয়ে ক্রেমলিনের পা ফেলার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন

Related Articles