মিথ্যাচারের জবাব দিলেন ইকরার ছাত্রশিক্ষকগণ

মিথ্যাচারের জবাব দিলেন ইকরার ছাত্রশিক্ষকগণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর নিকটবর্তী টঙ্গী ইজতেমা মাঠ দখলের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষের পেছনে রাজধানীর জামিআ ইকরা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের মিথ্যাচার ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক মাদরাসার শিক্ষক, মুহাদ্দিস ও আলেম-তলাবারা এসব মিথ্যাচারে জড়িয়ে পড়েছে। আসলে বাস্তবতা কী। কী ঘটেছিল সেদিন? জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ছাত্রশিক্ষকগণের সঙ্গে কথা বলে নিচের প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন পাথেয় টোয়েন্টিফোরের সহ সম্পাদক আদিল মাহমুদ ও কাউসার মাহমুদ।

জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রইস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ নিজেও শনিবার মাদরাসায় হাজির ছিলেন। পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, আমরা স্বাভাবিক ক্লাস চালিয়ে গেছি। এর বাইরে আমরা কিছুই জানতাম না। আমার সব শিক্ষক ও ছাত্ররা ক্লাসে ছিল।

জাময়িা ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমীর কাছে ১ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবারের হাল জানতে চাইলে পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, শনিবার সারাদিন দরস চলে। আমি অবশ্য অসুস্থ ছিলাম। ছাত্ররা আমার কাছে যায়। দরস করতে পারবো না তবুও তাদের দরস করতে বলি। জ্বর কমলে কিছুক্ষণ পড়াব। কিন্তু সারাদিন তিরমিযির সবক ছাড়া আর কোন ক্লাস নিতে পারিনি। সকালে আমাদের এখানে ভারতের প্রখ্যাত মুফতী সায়্যিদ সালমান মানসুরপুরীর আসার কথা ছিলো। তিনি কখন আসবেন সেই খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম আমাকে দেখতে আসা ছাত্রদের কাছে। শুনলাম অন্য প্রোগ্রামে তিনি ঢাকার বাইরে গেছেন। এর ভিতর বিকালের দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন আসতে শুরু করে। আমাদের ছেলেরা টঙ্গি ইজতেমার ময়দানে গিয়েছে কি না!

মাদ্রাসায় এসে উস্তাদদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়। চলমান সময়ের নানা মিথ্যাচারের সঙ্গে আমাদের নিরীহ ছাত্রদের নিয়ে নতুন এ মিথ্যা তথ্যে আমরা খুব ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হই। আল্লাহর হাতেই এসব অপপ্রচারকারীদের বিচার তুলে দিচ্ছি আমরা। ভয়ানক এ ফিৎনার যে রূপ আমাদের সামনে ভেসে উঠেছে তাতে এক ধরনের শঙ্কা অবশ্যই উঁকি দিচ্ছে। পাকিস্তানীদের চেয়ে বেশী উগ্রতা দেখাচ্ছে একধরনের তরুণ মৌলভী। তবু আল্লাহর রহমতের কাছে আশা রাখি চির মমত্বের প্রতীক বাঙালিরা উগ্র কট্টরপন্থীদের বেশীদূর অগ্রসর হতে দিবে না।

ইকরা বাংলাদেশ স্কুল-এর ভাইস প্রিন্সিপাল নাসির আহমেদ পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সমগ্র ইকরা স্কুলে শনিবার তৃতীয় সেমিস্টার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চলছিলো। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে।

জামিয়া ইকরা বাংলাদেশের মুহাদ্দিস মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে বলেন,  ১ ডিসেম্বর শনিবার জামিআ ইকরার একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই অন্যসময়রে মত পরিচালিত হয়েছে। এ শনিবার দিন উস্তাদগণ যথারীতি দরস নিয়েছেন এবং সকাল থেকে ছাত্ররাই দরস তাকরারসহ সব কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজন ব্যাপর হলো, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এমন অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, ১ ডিসেম্বর ইকরার ছাত্ররা টঙ্গীতে গিয়ে মাঠে অবস্থানকারী ছাত্র ভাইদের উপর নাকি হামলা করেছে। তাহকীক ছাড়া ফেসবুকের ফেইক সংবাদে প্রভাবিত হওয়া সত্যই দুঃখজনক।

আল্লাহ তাআলা সকলকেই সংযম ও সবরের সাথে থাকার তাওফিক দান করুন। সাথে সাথে দ্বীনি তালীম ও দাওয়াতের মারকাযগুলোকে সকল ধরনের ফাসাদ থেকে হেফাজত করে এ সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ইফতা বিভাগের ছাত্র মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল থেকেই যথাযথ অবস্থা নিয়ে আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছে। আমিসহ আমাদের ক্লাসের সকল ছাত্র ক্লাসে উপস্থিত ছিলাম এবং উস্তাগণ দরস দিয়েছেন। তবে ৩০ নভেম্বর শুক্রবার আমাদের মাদরাসার পাশে ঝিল মসজিদে তাবলীগের কিছু সাথীদের দেখা গেছে। মাদরাসার কোন ছাত্র সেখানে বসার অনুমতি ছিল না। সকল ছাত্রই নিজ নিজ তাকরার ও মুতালায় ব্যস্ত ছিল।

জামিআ ইকরা বাংলাদেশের দাওরায়ে হাদীসের ছাত্র আব্দুল্লাহ তামজিদ পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১ ডিসেম্বর শনিবার আমাদের মাদরাসায় নিয়মতান্ত্রিক ক্লাস হয়েছে। শতভাগ ছাত্রদের উপস্থিতি আমার চোখে পড়েছে। তাবলীগের কিছু সাথীদেরকে আমাদের ঝিল মসজিদে দেখা যায়, তবে আমাদের মাদরাসার কোন ছাত্র তাদের কোন কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিল না। শুক্রবার রাতে আমাদের এলাকার একজন তাবলীগের সাথীর সাথে কথা বলে আমি জানতে পারলাম, তারা মসজিদ কমিটির সাথে কথা বলে মসজিদে অবস্থান করছে। শনিবার সকালে ইজতেমার মাঠে দিকে তারা রওয়ানা হবে।

জামিআ ইকরা বাংলাদেশের মেশকাত জামাতের ছাত্র ইমদাদুল্লাহ ত্বহা পাথেয় টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমি শনিবার সকাল থেকে ক্লাসে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের ক্লাসের সকলেই ক্লাসে উপস্থিত ছিল। যথাক্রমে উস্তাদগণ আমাদের ক্লাসে দরস দিয়েছেন। মসজিদে উপস্থিত তাবলীগের সাথীদের সাথে আমাদের কোন কথা হয়নি। আমাদের ছাত্ররা মসজিদে উপস্থিত তাবলীগের সাথীদের বিষয়ে কিচ্ছু জানে না। তাদের কোন কার্যক্রমের সাথে আমরা জড়িত ছিলাম না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *