মিল্ক ব্যাংক; আল্লামা মাসঊদের বক্তব্য ভাবনীয় বটে

মিল্ক ব্যাংক; আল্লামা মাসঊদের বক্তব্য ভাবনীয় বটে

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক প্রসঙ্গে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একদম ফেলে দেওয়া যায় না। অনেক চিন্তার বিষয়। না বুঝে আগেই তাঁর বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে নেওয়াটা বোকামী হবে।

দুধ মা এর প্রচলন তো নবীজী মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে ছিল। তিনি নিজেই একাধিক দুধ মায়ের থেকে দুধ পান করেছিলেন। যেমন হালিমা সাদিয়া তো রাসূল (সা.)-এর দুধ মাতা। সে যুগের অধিকাংশ বাচ্চারা দুধ পান করত অন্য মায়ের।

সুতরাং এই মহান কাজ কে একেবারে খাটো করা যাবে না। এটা যদি ওলামায়ে কেরাম পরামর্শের ভিত্তিতে একটা সুন্দর পদ্ধতি বের করতে পারেন, তাহলে হয়ত বহু মানুষ উপকৃত হতে পারে।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের বক্তৃতা থেকে বোঝা যায়, তিনি সুন্দর কোন সমাধান চাচ্ছেন। একদম মিল্কব্যাংক বন্ধ না করে দেশের শীর্ষ আলেমদের নিয়ে একটা উত্তম পদ্ধতি বের করা। এর দ্বারা হয়ত অনেক অসহায় শিশু মুক্তি পেতে পারে। বর্তমানে আধুনিক যুগে অনেক কিছু সম্ভব। একজন মায়ের দুধকে আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। সেই মায়ের নাম, ঠিকানা, তার ছেলে মেয়ের নাম ঠিকানা ইত্যাদি বিষয় লিপি বদ্ধ করে রাখা যেতে পারে। এমনকি সেই মায়ের ছবি, এবং তার বাচ্চাদের ছবি ও সংরক্ষন রাখার সিষ্টেম বের করা যায়। এক মায়ের দুধ আরেক মায়ের সাথে না মিশিয়ে প্রত্যেক মায়ের দুধ আলাদা আলাদা রাখা যেতে পারে। এভাবে আলেমদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে একটা সুন্দর সমাধান করা যেতে পারে বলে মনে করি।

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব আসলে অনেক বিচক্ষণ মানুষ। আমি নিজেও প্রথমে বুঝিনি। ওনার বক্তব্যের পরে চিন্তা করলাম, আসলে তিনি কথাটা একেবারে খারাপ বলেননি। তিনি কিন্তু নিজে ফতোয়া দিচ্ছেন না। বরং তিনি বরেণ্য আলেমদের স্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য ফরীদ সাহেবের বক্তৃতাকে হিংসাবশত ফেলে দিবেন না কেহ। দেশ সেরা আলেমদের নিয়ে বসে সুন্দর সমাধান হতে পারে।

ডঃ আ.ফ.ম খালিদ হুসাইন সাহেবের বক্তৃতায় এরকম একটা বিষয়ের টাচ তিনি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেটা সম্ভব কিনা এটা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এজন্য আর তিনি সামনে বাড়েননি। কিন্তু যেহেতু ইসলামে এরকম বিধান আছে, তাই একটা ফয়সালা হওয়া চাই। হ্যাঁ, হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক যেটা চালু করেছে, সেটা অস্পষ্ট একটা বিষয়। কোন মায়ের দুধ কোন বাচ্চা পান করছে, সেটা জানা থাকছেনা কারো। এরকম অজানা বিষয় হলে তো আর কেউ এটা কে জায়েজ বলবেন না।

পরিশেষে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কথার উপর ভিত্তি করে আলেম সমাজের চিন্তা করে দেখা উচিত কি করা যায়। আল্লাহ আমাদের সহী রাস্তা দেখার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *