পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)
সোমবার (১৭ জুন) ৬৭ বছর বয়সে দেশটির আদালতে ইন্তেকাল করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট মনিটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বাধীন এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসিকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার। এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে। কয়েকটি মামলায় মুরসিকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
গত ৬ মে মুহাম্মদ মুরসির পরিবার জানায়, তাকে বর্তমানে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এটা তাকে বন্দিদশার শর্ত-বিরোধী। ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটা করা হচ্ছে।
মুরসির পরিবার সূত্রে আরও জানায়, কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না এবং সেখানে তাকে বারবার হত্যা করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি হুমকির বিষয়টি আদালতকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
মুহাম্মাদ মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে কারাগারে তার ‘দুরবস্থা’র জন্য প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসি সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিশিরের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এবং তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এছাড়া, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছ ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটি।
ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখে, মুহাম্মাদ মুরসি বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ও লিভার সমস্যায় ভুগলেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জেলখানার নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। খারাপ আচরণ এবং চিকিৎসার অভাবে মুরসির জীবন এখন হুমকির মুখে রয়েছে।


