পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্ব কায়িন রাজ্যের একটি গ্রামে ক্ষমতা দখলকারী জান্তার বিমান হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে লু থাও শহরের লায়ওয়া গ্রামে এ হামলা হয়। অভিযানে একজন ব্যাপ্টিস্ট যাজক এবং একজন ক্যাথলিক বিশপও মারা গেছেন। ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্সের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মার্কিন কমান্ডার ডেভিড ইউব্যাঙ্ক এই তথ্য জানিয়েছেন। রেডিও ফ্রি এশিয়া।
স্থানীয়রা জানায়, হামলায় অনেক বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন। হামলার পর গ্রাম ছেড়ে মানুষ পালিয়ে গেছে। ইউব্যাঙ্ক জানিয়েছেন, দুটি যুদ্ধবিমান একটি গির্জাকে লক্ষ্য করে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। বোমাগুলো শক্তিশালী ছিলো। যদি স্কুল চালু থাকতো তাহলে সব শিক্ষার্থী মারা যেত, কারণ এই হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্স গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জরুরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
হামলার শিকার এলাকাটি লু থাউ টাউনশিপ কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) সদর দপ্তরের কাছে অবস্থিত। এলাকাটি কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) নিয়ন্ত্রিত। এরা কাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে এর আগে অসংখ্য যুদ্ধ করেছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি কেএনএলএ নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী কায়িন রাজ্যের একটি শহরতলীতে তিনটি সামরিক ক্যাম্পে হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫০ জন সৈন্য নিহত হয়। গত মাসে কাওকারেক শহরে কেএনএলএ জান্তা সেনার সাথে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ করে। এতে তিনজন বেসামরিক লোক নিহত হয় এবং এক হাজারেরও বেশি মানষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
কেএনএলএ মিয়ানমারে চারটি শক্তিশালী সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে একটি। জান্তার হামলা ৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেএনইউ ব্রিগেড ৫ এর নেতা পাদোহ মাহন। তবে কায়িন রাজ্যের জান্তা মুখপাত্র অর্থনীতিবিষয়কমন্ত্রী সাউ খিন মং মিন্ট হামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (বার্মা) অনুসারে, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ২৩ মাসে ২৭০০ জনের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।


