মুসলমানদের উত্তেজিত করতে চাইছে আরএসএস-বিজেপি : সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আরএসএস ও বিজেপি ভারতের মুসলমানদের উত্তেজিত করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্ৰন্থগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।
পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা জমিয়তে উলামা হিন্দের ডাকে সুজাপুর জামিউল উলুম মাদ্রাসায় আমান (শান্তি) ও একতা সম্মেলন প্রধান অতিথি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।
তিন বলেন, প্রকৃত ধর্ম হিংসা-বিদ্বেষ শেখায় না। আরএসএস বিজেপি চাইছে মুসলমানরা গরম হচ্ছে না কেন? এরা রাস্তায় নামছে না কেন? এরা পেটাপিটি করছে না কেন? তিনি সকলেকে আবেদন করেন, ধৈর্য্য ধরুন আমাদেরকে কাজ করতে দিন। ঠান্ডা মাথায় চললে লম্বা রাস্তা চলা যাবে, এখনও সময় আছে।
ইমাম সাহেবদের উদ্দেশ্যে রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, খানকাহ ও পীরোত্তর সম্পত্তির কাগজপত্র ঠিক আছে না নেই? নিবন্ধিকৃত কি না? সবগুলো দেখবেন। পরিবারের কাগজপত্র সংশোধন করার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে আমাদের সাহায্য নিন।
এই ভারতবর্ষ আমাদের হযরত আদম আ. এখান থেকে ৩০০ বার হজ্জ ও ৭০০ বার উমরাহ করেছেন। তোমারা কে হে? আমাদের তাড়িয়ে দেবে। দেশের আইন সবার জন্য সমান, আইনের বাইরে কেউ নই। মাসলাকী ও ধর্মীয় বিভাজন ভুলে শান্তি সম্প্রীতি ও একতার বার্তা দেন মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি নূরে আলম চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মগুরু অরুণজ্যোতি ভিক্ষু, বিশ্বকোষ পরিষদের সম্পাদক শ্রী পার্থ সেনগুপ্ত, ক্বারী ফজলুর রহমান, ডঃ সাবাহ ইসমাইল নদভী, জমঈয়তে আহলে হাদিসের সম্পাদক আলমগীর সর্দার,জেলা জমিয়তে উলামার সম্পাদক হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হাই, মুফতি ফাহিম সাহেব, হাফেজ ইয়াসিনসহ জমিয়তে উলামা হিন্দের কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
এরআগে ২৩ আগস্ট শুক্রবার জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৪০ বছর ধরে জমিয়তে উলামা হিন্দ আসামের নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করে চলছে। ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায় করে সুপ্রিমকোর্টে জমিয়তে উলামা হিন্দ মজলুম মানুষদের পক্ষে কেস লড়ছে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত ভারতবাসীদেরকে এনআরসি নাম নিয়ে হয়রানি করা হয় তাহলে জমিয়তে উলামা পূর্ণ শক্তি দিয়ে পাশে থাকবে।


