পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘মুসলিমরা রাম মন্দির নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাখভি। নভেম্বর রোববার ওই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাখভি।
নাখভি বলেন, ‘শিগগিরি রাম মন্দির ইস্যুর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে সামাজিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এমন দ্বন্দ্বের ভাবনা নেই।’
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে মন্দির নির্মাণের জন্য বিজেপি নেতাদের আইন তৈরি করার দাবি প্রসঙ্গে তিনি ‘অপেক্ষা করুন ও দেখুন’ নীতি গ্রহণের আবেদন জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার ওই ইস্যুতে এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু বলেনি। তিনি বলেন, ‘সরকারের যে অবস্থান হবে, সেটা আমারও অবস্থান হবে। সরকার এই বিষয়ে এখনো কিছু বলেনি।’
বিতর্কিত ওই ইস্যুকে মুসলিমরা কীভাবে দেখছেন এই প্রশ্নের জবাবে নাখভি বলেন, ‘একজন সাধারণ মুসলিম শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান চায়। মুসলিমরা শান্তিপ্রিয় সম্প্রদায়। তাঁরা নিজেদেরকে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে শামিল করতে চায় না। কিছু লোক, কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থের জন্য তাদেরকে উসকানি দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। যদিও মানুষ চায় ওই ইস্যুর শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হোক।’
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে বড় কোনো দাঙ্গা এবং সন্ত্রাসী হামলা হয়নি বলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাখভি বলেন।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা কয়েকশ’ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে। তাদের দাবি, ওই স্থানটি রামের জন্মস্থান। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ওই মামলার শুনানি হবে। কিন্তু তার আগেই বিজেপি-আরএসএসের একাংশের নেতা বিতর্কিত ওই স্থানেই রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অর্ডিন্যান্স জারি ও আইন তৈরি করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
রাম মন্দির ও বাবরি মসিজদ ইস্যুতে অনেকদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে ভারতে। কয়েকদিন আগেই এ ব্যাপারে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন আসাম থেকে নির্বাচিত ভারতীয় পার্লামেন্টের সাংসদ বদরুদ্দীন আজমল।
অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ এবং রাম মন্দির ইস্যুতে বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যেই মূলত কঠোর সমালোচনা করেছেন মাওলানা আজমল বলেন, যখন বিষয়টা পুরোপুরিই আদালত দেখছে। আর মুসলমানরা বারবার বলছে আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা তা গ্রহণ করবো। তাহলে এমন স্থির পরিস্থিতে হঠাৎ করেই আরএসএস আর বিজেপি লিডারদের অস্বস্তি কেন? কেন তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এখন। এখন তো মনে হচ্ছে, তাদের নিজেদের ভীতই দুর্বল হয়ে গেছে৷ তারা বুঝে গেছে তারা আদালতের কাছে তাদের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পেশ করতে অক্ষম।
মাওলানা আরও বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় মামলা। এ বিষয়টি নিয়ে তারা যেসব আচরণ করছে এবং হম্বিতম্বি করে দলবদ্ধভাবে যেভাবে তাদের আক্রোস প্রকাশ করছে তা রাষ্ট্রের জন্য খুবই ভয়ংকর।
বদরুদ্দীন আজমল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দেখেছি তৃণমূল বা ছোটছোট নেতারা অযোদ্ধা নিয়ে সহিংস বক্তব্য উগ্রে দিত৷ কিন্ত এখন তো দেখছি বিজেপি, আরএসএসের বড় বড় নেতা এবং স্বয়ং মন্ত্রী পরিষদ থেকেও এ ব্যাপারে উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে৷ এদের কেউ কেউ আবার রাষ্ট্রীয় আইন পরিষদ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। (তাদের অবশ্যই এসব বিষয় জানার কথা, এসব রাষ্ট্রীয় মামলা ও বিবাদপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কথা বলার একটা নিয়মকানুন আছে, রুলস আছে) তারা সেইসব ভুলে গিয়ে যেভাবে ইচ্ছেমতো বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে, তা খুবই ভীতিকর। তারা নতুন করে অযোদ্ধায় রাম মন্দির নির্মাণের ইতিহাস রচনা করছে।


