মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় ঢাকার ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় ঢাকার ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ঢাকার ইসলাহী ইজতেমা।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরিপাড়ায় জামিআ ইকরা বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

মুসলমানের জিন্দেগী আমল ইখলাসের জিন্দেগী বলে জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, কেবল ওয়াজ শোনে আমল না করা মুসলমানের কোনো মূল্য নেই আল্লাহ তাআলার কাছে। আল্লাহ তাআলার কাছে তার মূ্ল্য আছে, যে ওয়াজ শোনে আমল করে এবং সেই অনুযায়ী আমলী জিন্দেগী গঠন করে। নিজে পরিশুদ্ধ হয়ে অন্যকে পরিশুদ্ধ করতে চেষ্টা করে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমলের পরিবেশ তৈরী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইজতেমায় আমরা দুই দিন যে আমলগুলো করেছি, বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমলগুলো আদায় করবো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো পড়বো। সকাল-সন্ধ্যা জিকির করবো। নবিজীর উপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করবো। এতে পরিবারের অশান্তি দূর হবে, শান্তি আসবে। একের প্রতি অন্যের আন্তরিকতা তৈরী হবে।

নেক ও এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমাদেরকে নেক ও এক হতে হবে। আর নেক ও এক হতে হলে ৩টি কাজ করতে হবে। এক. দিলের সাথী আল্লাহকে বানাতে হবে। দুই. আমলের সাথী বানাতে হবে রাসুলুল্লাহ সা. কে। তিন. পথচলার সাথী বানাতে হবে সাহাবায়ে কেরাম রা.কে। দাওয়াত, তালিম, তাযকিয়া, মুজাহাদা ও ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ এর মাধ্যমে আমাদের জীবনের গতিপথ এগিয়ে নিতে হবে।

এছাড়াও জামিআ ইকরার ফারেগীন ছাত্রদের উদ্দেশ্য শাইখুল হাদীস বলেন, দুই ধরণের সম্পর্কে বারবার দেখা সাক্ষাতের পরও কোনো বিরক্তি আসে না। এক. মা-সন্তানের সম্পর্ক। দুই. শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক। এই দুই সম্পর্কে বারবার দেখা-সাক্ষাতের পরও কোনো বিরক্তি আসে না। সুতরাং আপনারা সবাই শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, দেখা-সাক্ষাত করবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার ছাত্রদেরকে নাজাতের উসিলা মনে করি। তাই আপনারা সবসময় মানুষের খেদমত করবেন, দ্বীনের পথে চলবেন। এমন কিছু করবেন না, যাতে আপনারা আমার নাজাতের উসিলা হতে না পারেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেনে আপনাদেরকে জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে সফল করেন।

আরও পড়ুন: ইজতেমার প্রথম দিন: ‘এটা কোনো ওয়াজের মাহফিল নয়, আমলের মাহফিল’

(ইজতেমার সময়সূচির ক্রম অনুসারে) দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার প্রথম দিন হাজারো দেশ বরেণ্য আলেমদের উপস্থিতিতে বয়ান করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সহসভাপতি ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, ছয় তাসবির আমল পরিচালনা করেছেন মাওলানা শাহাদাত হোসাইন এমদাদী, ইসলাহী ইজতেমার গুরুত্ব ও কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, দুরুদ শরীফের আমল পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর নির্বাহী সভাপতি ও ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, ইসলাহে নফসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বয়ান করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সাংঘঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মাদানী নগর মাদারাসার মুহতামিম মুফতি ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, তাহাজ্জুতের গুরুত্বের ব্যাপারে নসিহত করেছেন মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম খাঁন।

ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সহসভাপতি ও রংপুরের পীর মাওলানা হুসাইন আহমদ বারো তাসবির আমল পরিচালনা করেছেন, বাদ ফজর জিকিরের আমল পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম গাজীপুরী, দাওয়াত, তালিম, তাজকিয়া ও মুজাহাদা ফি সাবিলিল্লাহ প্রসঙ্গে বিস্তর আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন সাইফী, উম্মতপনা নিয়ে বয়ান করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী, তাযকিয়ায়ে নফসের উপর নসিহত করেছেন আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম ঢাকা আফতাবনগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মাদ আলী, ইলমে তাসাউফ ও আকাবিরে দেওবন্দ প্রসঙ্গে বয়ান রেখেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সহ সভাপতি মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *