পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে ভারতের বিহার রাজ্যের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি মিথ্যাচারের কারখানা। মোদি মিথ্যার ফ্যক্টরি। উনি যত ভালো উপায়ে মিথ্যা বলেন, অত ভালো করে আমরা সত্যও বলতে পারি না। তিনি বলেন, আগামী লোকসভা নির্বাচন উন্নয়নের ইস্যুতে লড়া হবে। আমরা জাতপাতের রাজনীতি করি না।
বৃহস্পতিবার ৯১৭ জানুয়ারি) ‘আজতক’ হিন্দি গণমাধ্যমে বিহার রাজ্যের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।
তেজস্বীর প্রশ্ন, জাতপাতের ব্যবস্থা কে তৈরি ক রেছে? দলিতদের উপরে অত্যাচার করা লোকেরা কারা? যদি আমরা দলিতদের উপরে হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তাহলে আমরা বর্ণবাদী হয়ে যাই না। তিনি বলেন, আমরা বর্ণবাদী নই। আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে কথা বলি। সবচেয়ে বড় বর্ণবাদী হল বিজেপি ও আরএসএস। শেষমেশ একই বর্ণের মানুষকে আরএসএসের প্রধান করা হয় কেন?
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি উচ্চবর্ণের মানুষদের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণের (শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা) যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তেজস্বী যাদব তাঁর সমালোচনা করে বলেন, কীসের ভিত্তিতে দশ শতাংশ সংরক্ষণ দেয়া হয়েছে? অর্থনৈতিক ভিত্তিতে দেয়া ওই সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে সংবিধানে গরমিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক বৃহস্পতিবার বলেন, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিজেপি ভারতকে যা দিতে পেরেছে তা হচ্ছে বিভাজন, বিদ্বেষ, বিস্ফোরণ ও বিদেশি আতঙ্কের রাজনীতি। এটা ওঁরা করেছেন একটার ওপরে দাঁড়িয়ে তা হচ্ছে মিথ্যাচারের কারখানা। চমৎকার কথা বলেছেন তেজস্বী যাদব, তাঁকে অভিনন্দন যে এরকম একটা সুন্দর কথা বলতে পেরেছেন। আরএসএস থেকে শুরু করে যা ওঁরা হিটলার, গোয়েবলস থেকে শিখেছেন মিথাচারকে কীভাবে শিল্পে পরিণত করা যায়। যদিও সেই মিথাচার দেশের মানুষ ধরতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর দু’কোটি চাকরি পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তার পরিবর্তে তিন কোটি দশ লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেছেন এদের আমলে। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এদের আমলে। ওঁরা জিনিষপত্রের দাম পঁচিশ শতাংশ কমানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু জিনিষের দাম আড়াইশ’ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। চাষিদের উন্নয়নের কথা ছিল কিন্তু তাঁদের এমন অবস্থা হয়েছে যে পিঁয়াজ মাত্র পাঁচ পয়সা কেজি দরে বিক্রি করছেন চাষি! মধ্যবিত্তরা তা কিনছেন কুড়ি টাকা কেজি দরে। গুজরাটে পচাত্তর পয়সা কেজি রসুন বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের, মানুষকে তা কিনতে হচ্ছে একশ’ টাকা কেজিতে। মধ্যবিত্ত, ফড়েদের, দালালদের রাজত্ব এটা। মিথাচারের কারখানা। ওঁরা দালাল ও ফড়ে বৃদ্ধির কারখানায় পরিণত হয়েছে।
ড. ইমানুল হক বলেন, প্রত্যেকের একাউন্টে পনের লাখ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। বরং দেশ থেকে দুই দশমিক সাত পাঁচ লাখ কোটি টাকা বৈধভাবে বিদেশে চলে গেছে। অবৈধভাবে যে টাকা নীরব মোদি, ললিত মোদি, বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসিরা নিয়ে গেছেন তা তো কহতব্য নয়। কথা ছিল সকলের সঙ্গে সবার উন্নয়ন হবে। কিন্তু মুসলিমদের তো কোনো উন্নয়নের প্রশ্নই নেই। আদিবাসীদের হত্যা করা হচ্ছে, দলিতদের হত্যা করা হচ্ছে, মন্দিরে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের নগ্নভাবে মারধর করা হচ্ছে। কেউ বিয়ে করতে যাচ্ছেন ঘোড়ায় চড়ে তাঁকে নামিয়ে পেটানো হচ্ছে। ছেলেমেয়ে পড়তে চায় সেজন্য বাবা-মাকে নগ্ন করে ঘোরানো হচ্ছে। একই কুয়ো থেকে তারা জল নিতে পারেন না। এভাবে তাঁদের আমলে বিভেদ ও বৈষম্য চলছে বলেও অধ্যাপক ড. ইমানুল হক বলেন।


