মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আবারও সেই একই কেস। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। আসলে ট্রয়লবাজরা ওঁৎ পেতে থাকে। কখন কোন সুরতে আল্লামা মাসঊদকে বেকায়দায় ফেলা যায়। আর এখন একটা মিনিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু লোকের। কোন একটা কিছু হলে, সেখানে আল্লামা মাসঊদ এর কাঁধে ঠেলে দেওয়া হয়। আর অনলাইনে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র আছে, ওরা সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভাইরাল শুরু করে দেয়। সেই সাথে ওদের পাঁতানো ফাঁদে পা দেই আমরা। একদম তুলো ধুনো করে আলেম সমাজকে, উলামায়ে দেওবন্দকে।
ছবিতে স্পষ্ট দেখে যাচ্ছে, গত ৩ রা মে এর ছবি, যেখানে সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর মিটিং এ বসে আছেন। তখন রোজার মাস ছিল না। সামনে একটা পানির বোতল শোভা পাচ্ছে। সেই ৩ তারিখের ছবিকে ১২ তারিখের পীযুষ বন্দোপধ্যায়ের বক্তব্যের সাথে জুড়ায়ে দিয়ে আল্লামা মাসঊদকে হেনেস্তা করা হচ্ছে। নিউজটাকে ভাইরাল করে, যত দোষ নন্দ ঘোষ, আল্লামা মাসঊদকে দোষারোপ করা হচ্ছে, উনি সেখানে উপস্হিত ছিলেন, কিন্তু কেন প্রতিবাদ করলেন না। অথচ ১২ তারিখের ঐ বক্তব্যের সময় আল্লামা মাসঊদ ছিলেন না। কিন্তু তারপরেও তিন তারিখের ছবি কাটিং করে আল্লামা মাসঊদকে দোষী সাব্যস্ত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।
দেখুন! দাঁড়ি রাখা এবং টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করা, জঙ্গির যে আলামাতের কথা বলা হয়েছে, আমরা সেটা সমর্থন করিনা। আল্লামা মাসঊদ সেটাকে সমর্থন করেন না।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের মুখপাত্র পীযুষ বন্দোপাধ্যায় যে ইন্ডিকেটর গুলো উল্লেখ করেছেন, সেটা সাংঘর্ষিক। সব গুলো আলামাতকে মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। কেননা, আমরা মুসলমান। মুসলমান হিসেবে ধর্মীয় কিছু বিষয় আছে, যে গুলো মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।
পীযুষ সাহেবের কিছু কিছু বক্তব্যকে এদেশের সাধারণ মুসলিমের হৃদয়ে চরম ভাবে আঘাত করেছে। তার এই বক্তব্যে সম্প্রীতি নষ্ট হবে। এজন্য পীযুষ সাহেবের এহেন বক্তব্যের নিন্দা জানাই।
কিন্তু তাই বলে আল্লামা মাসঊদকে খামাখা দোষী সাব্যস্ত করা, এবং তাঁর তিন তারিখের ছবি কাটিং করে ১২ তারিখের অনুষ্ঠানের সাথে জোড়া লাগায়ে পীযুষ বন্দোপধ্যায়ের বক্তব্যের সাথে যে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, এটারও তীব্র নিন্দা জানাই। এ সমস্ত ট্রলবাজদের থেকে আমাদের দুরে থাকতে হবে। ওরা কারণে অকারণে আল্লামা মাসঊদ এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ওলামা মাশায়েখদের কে হেয় প্রতিপন্ন করে যাচ্ছে।
আল্লামা মাসঊদ সাহেব তিন তারিখে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা তো অনেক হৃদয় গ্রাহী বক্তব্য ছিল। সেখানে তো তিনি সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তাঁর কোন বক্তব্য তো ইসলাম বিরোধী নয়। কিন্তু তারপরে শুধু মাত্র তাঁকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ১২ তারিখের পীযুষ এর বক্তব্যের সাথে গুলিয়ে ফেলে দোষারোপ করা হলো!!
অনেকে বলছেন, তিন তারিখে বা ওখানে আল্লামা মাসঊদ কেন গেলেন?
আসলে ওখানে গিয়েছিলেন, একটা বিদেশী মিডিয়ার জওয়াব দেওয়ার জন্য। একটা বিদেশী মিডিয়া বাংলাদেশের সম্প্রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তাদের প্রতিবাদ করার জন্যই সেখানে যাওয়া। বাংলাদেশে যে সম্প্রীতি আছে,সেটা তুলে ধরাই উদ্দেশ্য ছিল।
আমি বুঝি না, কেন আজ তারা আল্লামা মাসঊদের পিছে লেগে থাকে সব সময়। কোন দেওবন্দী ঘরানার সন্তান তো এটা করতে পারেনা। তবে কারা এই ট্রলবাজ? তবে একথা আমি বলতে পারি, ওরা আলেমদের কল্যাণকামী কেউ নয়। আল্লাহ ওদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।


