যশোরে ভোটযুদ্ধে দুই ভাই

যশোরে ভোটযুদ্ধে দুই ভাই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভায় আপন দুই ভাই পরস্পরের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই দুই ভাই অবশ্য এক দফা করে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু রেষারেষির কারণে দু’দফা পরাজিতও হয়েছেন। তবে, এবার কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে দুইজনই লড়ছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভা প্রথম নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন মাস্টার সামছুর রহমান। পরের নির্বাচনে তিনি নিজের ভাইকে ওই ওয়ার্ডে ছাড় দেন।

২০১১ সালের নির্বাচনে তার মেঝভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে ফের প্রার্থী হতে চান সামছুর রহমান। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান নিজের ভাই। একপর্যায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালে সামছুর রহমানকে প্রার্থী করার শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান মিজানুর।

এবার নির্বাচনে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় দুই ভাইই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা ছাড়াও এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরো দু’জন। এর মধ্যে মিজানুর রহমান টেবিল ল্যাম্প ও মাস্টার সামছুর রহমান পানির বোতল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাস্টার সামছুর রহমান বলেন, ‘২০০৪ সালের প্রথম নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে জয়ী হই। এরপর মেঝভাইকে তিনবার সুযোগ দিয়েছি। তিনি মাত্র একবার নির্বাচিত হন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল, এবার আমি নির্বাচন করব। কিন্তু মেঝভাই নিজের ইচ্ছামতো প্রার্থী হয়েছেন। বাধ্য হয়ে আমিও প্রার্থী হয়েছি। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আশাবাদী।’

জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, বাড়ির সবাই তাকে (সামছুর) ভোট করতে নিষেধ করার পরও সে প্রার্থী হয়েছে। তার কোনো ভোট নেই। আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে অন্য প্রার্থীর। আমিই বিজয়ী হবো’।

তারা দুই ভাই ছাড়াও এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আরো দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার প্রতীক ডালিম এবং উট পাখি প্রতীকে সাংবাদিক ইকবাল কবির।

বাঘারপাড়া পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৪৯২ জন। এর মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে ৮৪১ জন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *