যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রথম বারের মতো একজন ফিলিস্তিনি নারী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রাজ্যের সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন ২৯ বছর বয়সী রুওয়া রুম্মান। একজন অভিবাসী, ফিলিস্তিনি শরণার্থীর পরিবারের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি একজন মুসলিম নারী হিজাব পরে নির্বাচন শুরু করা মোটেও সহজ ছিল না। এ যাত্রায় তাকে নানা ধরনের বৈষম্য ও বিধি-নিষেধের মুখোমুখী হতে হয়েছে।

জর্জিয়া রাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট ৯৭ এর প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান সদস্য জন চ্যান জয়ী হতে নানা ধরনে কূটকৌশলের আশ্রয় নেয় বলে জানান বিজয়ী রুম্মান। ভোটারদের ভয় দেখানোসহ বর্ণবাদী ও মুসলিম বিদ্বেষী কলা-কৌশল ব্যবহার করে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয় অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শতকরা ৫৮ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন সমাজ সংগঠক এ নারী।

রুওয়া রুম্মান জানান, তার নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ মানুষ প্রচারণার সময় তাকে সমর্থন করেছেন এবং প্রতিপক্ষের সমর্থকদের সম্ভাব্য হামলা-হুমকি থেকে রক্ষা করেছেন। ফলে এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে উঠেছে। আমি সত্যিই আনন্দিত যে আমি এমন একটি এলাকায় বসবাস করি যেখানকার মানুষ আমার প্রতি ব্যাপারে খুবই মনোযোগী।

ডিস্ট্রিক্ট ৯৭ এর সীমানার ম্যধ্যে রয়েছে উত্তর আটলান্টা, গুইনেট কাউন্টি, বার্কলে লেক, ডুলুথ, নরক্রস সিটি ও পিচট্রি কর্নার। যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্রপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। তা ছাড়া এখানে বিশাল সংখ্যক মুসলিম, আফ্রিকান ও এশিয়ান আমেরিকান বসবাস করেন।

রুওয়া রুম্মান ১৯৯৩ সালে জর্দানের আম্মানে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা-দাদি ফিলিস্তিনি শরণার্থী ছিলেন। ২২ বছর আগে তার বাবা-মা আটলান্টায় পাড়ি জমান। তখন তার বয়স ছিল ৭ বছর। প্রায় ১০ মাস আগে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলে তার বাবা-মা কিছুটা দ্বিধান্বিত থাকলেও তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সমর্থন জানান। তা ছাড়া জনসেবাকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে রুম্মান জানান, শুধুমাত্র বিশেষ স্বার্থ বা গোষ্ঠী ও বড় কর্পোরেশনের জন্য নয়; বরং সবার জন্য সরকারি সেবাকে নিশ্চত করতে কাজ করব।

জর্জিয়ার সাধারণ পরিষদে আরো তিনজন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস তৈরি করেছেন। তারা হলেন, ২০০৮ সালে সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সিনেটর শেখ রহমান পুনর্নির্বাচিত হন, রাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী নাবিলা ইসলাম এবং জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত ফারুক মুঘল ও রুওয়া রুম্মান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *