পাথেয় ডেস্ক : পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘গ্যাংস্টারের মতো’ কৌশল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ বৈঠক হওয়ার পর এ অভিযোগ করা হয়েছে। পিয়ং ইয়ং-এর দাবি, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ‘চরম সমস্যাপূর্ণ’ ছিল। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ সাংঘর্ষিক। পম্পেওর বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনও সময়সীমার কথা জানায়নি। বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া এখন আর পরমাণু হুমকি নয়। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কথা বললেও এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ং ইয়ং-এর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংশয় চলার মধ্যেই গত ৫ জুলাই পম্পেও দুইদিনের জন্য উত্তর কোরিয়া সফরে যান। সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের পর এটাই পম্পেওর প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এ সফরে পম্পেওর অন্যতম লক্ষ্য ছিল, নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার অঙ্গীকারকে দৃঢ় রাখা ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা।
সফরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেননি পম্পেও। উনের ডান হাত বলে বিবেচিত নেতা কিম ইয়ং চোলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা পম্পেওর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এগুলো জটিল ইস্যু, তবে আমরা প্রায় সব কেন্দ্রীয় ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি এনেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। তবে অন্য ইস্যুগুলোতে আরও কাজ বাকি আছে।’ তবে এ বিবৃতি প্রদানের কয়েক ঘণ্টার মাথায় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দেখা গেছে পাল্টা চিত্র।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত অজ্ঞাত কূটনীতিকের এই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে একতরফাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের স্পৃহা নষ্ট করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক কিছু করবে বলে আশা করেছিলাম আমরা। ভেবেছিলাম বিনিময়ে আমরা কিছু পাব। যুক্তরাষ্ট্র যদি ধৈর্যহারা হয়ে গ্যাংস্টারের মতো দাবি-দাওয়া উত্থাপন করতে থাকে, আর ভাবে উত্তর কোরিয়া সে দাবি পূরণে বাধ্য হবে, তবে দেশটি মারাত্মক ভুল করছে।’
এর আগে শুক্রবার এ মার্কিন দূত উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর উদ্বোধনী আলোচনায় কিম ইয়ং চোল রসিকতা করে পম্পেওকে বলেন, তিনি অবশ্যই এখন নগরীর সব স্থান পরিদর্শন করতে পারেন। এর জবাবে পম্পেও বলেন, ‘হ্যাঁ,আমি রাজি। আমি এর অপেক্ষায় থাকছি।’
পিয়ংইয়ংয়ে এটি ছিল পম্পেও’র তৃতীয় সফর। গত এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন পম্পেও। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান হিসেবে তখন সফর করেছিলেন তিনি। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত মে মাসে দ্বিতীয়বার পিয়ং ইয়ং যান পম্পেও।


