পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডট কম: যুদ্ধবিমানের তুমুল শব্দে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার জনগণকে। রমজান মাসে মাইক দিয়ে, টিনের ড্রাম বাজিয়ে কিংবা নানা শব্দের শ্লোগান দিয়ে রোজাদারদের ঘুম থেকে সেহরির খাবার খেতে ডেকে তোলার রেওয়াজের সাথে আমরা অভ্যস্ত। তবে এবার ব্যাতিক্রম এই আয়োজন করছে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী। ইন্দোনেশিয়ার ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য জাকার্তা পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির বিমানবাহিনী জানায়, রমজান মাসে সেহরির সময় রোজাদারদের ডেকে তোলার যে নিয়ম দেশটিতে আছে, তাতে এবারে তারাও যোগ দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর টুইটার অ্যাকাউন্টে করা এক পোস্টে জানানো হয়, সেহরির সময় দেশটির জাভা দ্বীপের সুরাবায়া, সুরাকার্তা, ক্লাতেন, স্রাজেন ও ইয়োগইয়াকার্তায় বিমানবাহিনী পাইলটদের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে।
পোস্টে লেখা হয়, ‘আল্লাহ চায় তো আমরা রোজাদারদের রেওয়াজ অনুসারে সেহরির সময় ডেকে তুলতে যুদ্ধবিমান কাজে লাগাব।’
এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ান বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সুস এম ইয়ুরিস জানান, এ উদ্যোগ শুধু মাত্র সেহরিকালীন মুসল্লিদের ডাকা জন্যই নয়, বরং রোজা থাকা অবস্থায় পাইলটদের যাতে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়, সে ব্যবস্থা্র জন্যই করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের জন্য যথার্থ সময় হচ্ছে ভোর। দিনে অভুক্ত থাকলে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সকাল ১০টার পরে প্রশিক্ষণকে নিরুৎসাহিত করে। কেননা, এ সময় থেকেই অভুক্তদের সুগার লেভেল নেমে যেতে থাকে।
এ প্রসঙ্গে কর্নেল সুস এম ইয়ুরিস বলেন, ‘ব্লাড সুগার লেভেল কম থাকা অবস্থায় পাইলটদের যুদ্ধবিমান চালানোর ব্যাপারে বাধানিষেধ আছে।’ এটি একই সঙ্গে ওই সময়ে পাইলটদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও রোজাদারদের সেহরির খাবার খেতে ডেকে তোলার জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে বলেন তিনি।এর অংশ হিসেবে আকাশের নিম্ন স্তরে উড্ডয়নে সক্ষম যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে যাতে মানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট শব্দ তৈরি হয়, সে জন্য গ্রহণ করা হবে বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা।’


