ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অনুমোদন, তারপর রাশিয়ার প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির নির্দেশ, সব উপেক্ষা করেই সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতায় লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও সিরিয়ার ঘৌতায় চলছে বিমান হামলা।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক মুখপাত্র জেন্স লারকি বলেন, বুধবার সকালেও আমরা পূর্ব ঘৌতায় লড়াই চলার খবর পেয়েছি। পরিষ্কারভাবেই চলমান পরিস্থিতিতে সেখানে ত্রাণ পাঠানো এবং অসুস্থদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, যুদ্ধবিরতির সময়টিতেই পূর্ব ঘৌতার একটি শহরে হেলিকপ্টার থেকে দুইটি বোমা ফেলা হয়েছে এবং অন্য আরেকটি শহরেও জঙ্গিবিমান হামলা হয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা বিমান হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও খবরটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
গত ১০ দিনে ধরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌতায় বিমান হামলা চালাচ্ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বাহিনী। হামলায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।’ বিদ্রোহীরা চলমান বিমান ও গোলা হামলার জন্য সরকারকে দায়ী করছে। আর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি ‘মানবিক করিডরে’ গোলা হামলার জন্য বিদ্রোহীদের দায়ী করছে।
ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো এবং অসুস্থ ও আহতদের সরিয়ে নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পূর্ব ঘৌতায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব শনিবার অনুমোদন করেছিল। গত রোববার ফ্রান্স এবং জার্মানি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য সিরিয়া সরকারকে চাপ দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানায়। এরপর গত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পূর্ব ঘৌতায় প্রতিদিন ৫ ঘণ্টার জন্য মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের নির্দেশ দেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু পুতিনের এ আদেশের কথা জানিয়ে এক ঘোষণায় বলেছিলেন, প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে। তবে সিরিয়া সরকার কিংবা তাদের অন্যান্য মিত্র বাহিনী ৫ ঘণ্টার এ যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে রাজি হয়েছে কি না, তা নিয়ে কিছুই বলেননি শোইগু। সিরিয়া সরকারের হয়ে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যুদ্ধ করছে।


