পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরব দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণা দেয়ার পর প্রথম ঘণ্টায় তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যন্তোনিয় গুতেরেস বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক হচ্ছে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আগ্রাসন যা কিনা দরিদ্র এ দেশটিতে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেনের দুই কোটি ৪০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুই কোটি ২০ লাখ লোকের জন্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ সরকার ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলো জাতিসংঘ মহাসচিবের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালেকিও ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এ যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং এরপর প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। অবশ্য গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানানোর ঘটনা এবারই প্রথম নয়।
স্টকহোমে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের তত্বাবধানে ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ সরকার ও সৌদি আরবের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। সমঝোতা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইয়েমেনের ৭০ শতাংশ পণ্য হুদাইদা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রিয়াদ ওই সমঝোতা কখনোই মেনে চলেনি এবং হুদাইদা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অসংখ্যবার বোমা হামলা চালিয়েছে যাতে ইয়েমেন কোনো পণ্য আমদানি করতে না পারে।
যুদ্ধবিরতি ও জরুরি পণ্য সরবরাহের জন্য ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ৫৫ হাজারের বেশিবার ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং তখন থেকে এ পর্যন্ত সৌদি আগ্রাসনে ৫ হাজারের বেশি লোক হতাহত হয়েছে। সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়েমেনের আল মাসিরা টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত মার্চ থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদাইদা বন্দরে ৪৪২৮ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
বর্তমানে সৌদি আরব ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, বাস্তবতা হচ্ছে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েই সৌদি আরব হামলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পর প্রথম এক ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ব্যাপক বোমা বর্ষণ করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রতারণা মাত্র। যুদ্ধ থামানো তো দূরের কথা বরং তারা আগ্রাসন জোরদার করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এ ধরণের ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়া অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ ইয়েমেন যুদ্ধে কোনো সাফল্য অর্জিত না হওয়ায় সৌদি সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের ময়দানে ইয়েমেনের সরকার ও সেনাবাহিনী আগের চেয়ে ভাল অবস্থানে থাকায় রিয়াদ বেশ চাপে আছে। অন্যদিকে, সৌদি সরকার যদি জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাব অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার কথা না বলতো তাহলে তারা জনমতের চাপে পড়ে যেত এবং নিজেদের যুদ্ধকামী চেহারা আরো বেশি প্রকাশ হয়ে পড়তো। এ অবস্থায় সৌদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা লোক দেখানো বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র : পার্স টুডে


