যে দোষে আটকে যাবে মাগফিরাত

যে দোষে আটকে যাবে মাগফিরাত

যে দোষে আটকে যাবে মাগফিরাত

মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ আল্লাহর রহমত পেতে যেমন তাঁর পছন্দের কাজ করতে হয় তেমনি মাগফিরাতের জন্য বর্জন করতে হয় তাঁর অপছন্দের কাজ। অপরাধ চালিয়ে যাব আর বলব মুসলমান আমরা। আমাদের ক্ষমা করবেননা তো কাদের করবেন?!

বাপরে বাপ চুরি চুরি আবার সিনা জুরি! এসব আহ্লাদী কথায় এন্টার্কটিকার সব বরফ গলে গেলেও গলবেননা মাগফিরাতের বরফ। তাই মাগফিরাতের দিনে দয়াময় মালিকের ক্ষমা পেতে হলে তাঁর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আজ আমি আপনাদেরকে আল্লাহ পাকের কাছে অপছন্দনীয় জঘন্য একটি পাপের কথা বলব। যেই পাপে আমরা সবাই কম বেশি জড়িত। পাপটার নাম জুলুম, অত্যাচার। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা একাধিক স্থানে বলেছেন যে, তিনি জুলুম পছন্দ করেন না। তিনি কারো উপর জুলুম করেন না। তাহলে তিনি জুলুম করা কিভাবে পছন্দ করবেন?! প্রশ্নই উঠেনা। সুতরাং আমি আপনি তাঁর অপছন্দনীয় কাজ করে কোন আশায় তার মাগফিরাত কামনা করি!

যদি সমাজ ও দেশ জুলুমবাজে ভরা থাকে, তাহলে বলুন আল্লাহর রহমতের আশা কিভাবে করি!!

কাউকে অন্যায় ভাবে মারা, জোর জবরদস্তি করা, কারো জায়গা জমি জবরদখল করার নামই কি জুলুম? না। আরবীতে জুলুমের একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে “অয’য়ুশ শাইয়ি ফি গাইরি মহল্লিহি জুলমুন” কোন বস্তুকে তার যথোপযুক্ত স্থানে না রেখে অপাত্রে রাখাই জুলুম। ক্ষমতাবান যদি তার ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ না করে তাহলে সে জালিম। শিক্ষক যদি তার শিক্ষার সঠিক ব্যবহার না করে তাহলে সে শিক্ষক জুলুমবাজ। যে আলেম তার ইলমকে সঠিক স্থানে প্রয়োগ না করে সে অত্যাচারি। যে স্বামী তার স্ত্রীর হক্ব আদায় করেনা সে জালিম স্বামী। যে সন্তান তার পিতা মাতার হক্ব আদায় করেনা বা যে পিতা মাতা তার সন্তানের হক্ব আদায় করেনা তারাও জালিম। যে ব্যবসায়ী তার ক্রেতাকে ঠকায় সে ব্যবসায়ীও জুলুমের দোষে দোষী। যে বিচারক সঠিক বিচার করেনা সে ও জালিম। যে ডাক্তার তার রোগীর সঠিক ট্রিটমেন্ট করেনা সে ও এ কাতারের লোক।

এভাবে আপনি গোটা সমাজটাকে সামনে আনুন। তাহলে ক্যালকুলেশন হয়ে যাবে আমরা কারা জালিম আর কারা জালিম না। যদি সমাজ ও দেশ জুলুমবাজে ভরা থাকে, তাহলে বলুন আল্লাহর রহমতের আশা কিভাবে করি!! তারপরও আল্লাহ তো আল্লাহ। ওয়ানলি ওয়ান। হাজার দোষে দোষী তাতে কি, মালিকের কাছে খাটি অন্তরে দু’ ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে তওবা করলেই তিনি মাফ করে দেন। আবার কান্নার সময়টা যদি হয় রমজানের মাগফিরাতের দিবা নিশি তাহলে তো “নুরূন আ’লা নুর”।

সুতরাং আমরা যে যেই স্টেপের জালিম সেই স্টেপ থেকে সত্য দিলে তওবা করে ফিরে আসি। আশা করা যায় মাফ পেয়ে যাব অন্যথায় আমার আপনার জুলুম কিন্তু আল্লাহর মাগফিরাত আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *