যে সাধনায় মিলবে মুগুর!
মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ কাশেম ভাই জোর করে তার বসের বাসায় আমাকে নিয়ে গেল।গ্রামের ভিতরে শাহ আলম মিয়া শহুরে স্টাইলে বাড়ি বানিয়েছে যেদিকে তাকাই মন জুড়িয়ে যায়।
গেস্ট রুমে বসে আছি। টেলিভিশন চলছে। সাধারণত টেলিভিশন দেখি না কিন্তু আজ খুব কৌতুহলী হয়ে দেখছি। স্ক্রীনে ডিসকভারি চ্যানেল। আমি যতটুকু জানি এই চ্যানেলে পশুপাখি, বন জঙ্গল দেখায় কিন্তু আজ আর ওসব দেখাচ্ছে না। হিন্দু সাধু সন্যাসীদের সাধনা দেখাচ্ছে। হঠাৎ করে জঙ্গল থেকে সাধনায় কেন, চ্যানেল কতৃপক্ষের মাথা নষ্ট হলো নাকি?
পশুর জীবনে যেমন কোন লক্ষ্য নেই এদের অবস্থাও একই।
একটু পরেই সাধুদের অসাধারণ সাধনা দেখে মনে হলো নাহ, চ্যানেল কতৃপক্ষ মাথামোটা নয় রীতিমতো ব্রিলিয়ান্ট! ডিসকভারি চ্যানেল তো এখন একপ্রকার পশুই দেখাচ্ছে। পশুর গায়ে যেমন পোষাক থাকেনা এদের গায়েও পোষাক নেই, সবাই নেংটা। পশুর জীবনে যেমন কোন লক্ষ্য নেই এদের অবস্থাও একই। পাগলের মত একজন সাধনার নামে একনাগাড়ে সতের বছর যাবত একপায়ে দাঁড়িয়ে। আরেক সাধু বিশ বছর যাবত পানি খায়না।
এক সন্নাসী দশ বছর ধরে তার ডান হাত উপরে উঠিয়ে রেখেছে। উপস্থাপক বললো এটা একটু নীচে নামাও তো দেখি। সাধু বাবা অপারগতা প্রকাশ করলো। এখন হাত আর নীচে নামাতে পারেনা, লও ঠেলা!
কি বিষ্ময়কর সাধনা!
হয়রান হয়ে গেলাম।
এদের কান্ডকারখানা দেখে। উচ্চস্বরে হাসছিলাম আবার মনে মনে এদের জন্য ব্যাথিত ও হচ্ছিলাম।
পাগলের দল করেটা কি!
অথচ পাঠক! ওদের ভাবেসাবে আর কথায় মনে হচ্ছে ওরাই এই মুহূর্তে দুনিয়ার মহারাজা। বাকিরা ওদের প্রজা হওয়ার ও যোগ্য না।অতি সেবনে যা হয় আর কি!
ভাবখানা এমন, যার সাধনা যত স্বর্গে তার মাতব্বরি তত! ঐখানে যে মালেক দারোগা ইয়া বড় লৌহ ডান্ডা নিয়ে এদের মৃত্যুর প্রহর গুনছে তা-কি ওরা জানে?
কাশেম ভাইকে বললাম ভাই! দেখছেন?
: আরে পাগল ছাগলের দুনিয়া, যত্তসব হাবাজাবা!
: হাবাজাবা না ভাই, ওরা তো দিন-রাত একাকার করে মুগুরের সাধনা করছে। যার সাধনা যত বেশি তার মুগুরের সাইজ তত বড়!
কাশেম ভাইয়ের হাসতে হাসতে আমার শরীরের উপর পড়ার দশা।
প্রিয় পাঠক! এবার আসল কথায় আসি। দুনিয়াতে অনেক প্রকার সাধনা আছে। কিছু সাধনা আপনাকে হাসাবে আর কিছু কাঁদাবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাঃ কুরআন ও হাদিসে যে সাধনার কথা বলেছেন সেই সাধনাই আপনাকে দো-জাহানে হাসাতে বাধ্য এক কথায় স্থায়ী হাসি । আর এ ছাড়া দুনিয়াজুড়ে পরকালীন যত সাধনা আছে তা মুখে অস্থায়ী হাসি ফুটালেও দিনশেষে সব যাবে ভাড়ে।
রমজানের শেষ দশকজুড়ে একটা সাধনা আছে যাকে বলে এতিকাফ। কতিপয় প্রকৃত ট্যালেন্ট মানুষ ঘরবাড়ি, আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে আল্লাহকে পাওয়ার আশায় পরকালে মুখে হাসি ধরে রাখতে এ’তিকাফের জন্য এ সময়ে মসজিদে থিতু হয়।দিন-রাত নামাজ, তেলাওয়াত, যিকির আযকারে সময় কাটিয়ে সাধনা করে। আল্লাহর দরবারে কেঁদেকেটে বুক ভাসায়।
তাই যদি পারো তাহলে এই সাধনায় যোগ দাও। ঔষ্ঠাধারে হাসি ফুটবে, নির্মল হাসি,আভিজাত্যের হাসি,জান্নাতি হাসি,চির শান্তির হাসি। আর গাঁজা ফাজা,হাবাজাবা, বাবা খেয়ে সাধনা করবে? ঘরবাড়ি পরিবার পরিজন ছেড়ে ভবঘুরের মত জন্মগতপোশাক পরে উদোম গায়ে ঘুরাঘুরি?!
পিঠের চামড়া থাকবেনা। ফেরেশতাদের ডলা তো ডলা-ই! তারা চোখ, মুখ, কান বন্ধ করে ডলবে বিরামহীন। একশো একবার থুক্কু দিলেও কাজ হবে না তাদের কান বন্ধ। সুতরাং বেলা ফুরোবার আগেই যোগ দাও খাটি সাধনায়, যে সাধনা শুধুই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে পাওয়ার।
কথা দিলাম দিনশেষে তোমার মুখেই হাসি ফুটবে, একদম চওড়া হাসি। তাই এখনো সময় আছে ফিরে আসার, প্রকৃত সাধনায় যোগ দেওয়ার। ফিরে এসো বন্ধু!


